বাচ্চাদের স্কুলব্যাগে সাধারণত থাকে বই-খাতা, পেনসিল, টিফিনের বাক্স। কিন্তু আদিত্যর ব্যাগে থাকে আরও একটি বই—নিজ দেশের সংবিধান।
প্রথম শ্রেণির এই ছাত্রের বয়স মাত্র ছয় বছর। অথচ তার কথায় উঠে আসে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং রাজনীতির মতো বিষয়। সম্প্রতি ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছে আদিত্য কুমার।
আরও পড়ুন
ভারত / আন্দোলন থেকে ৬ বছরের শিশু আটক, ছাড়া পেতেই অগ্নিঝরা বক্তব্য
বিক্ষোভস্থলে দাঁড়িয়ে বড়দের সঙ্গে স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাকে। পরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে বলে অভিযোগ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা থানায় থাকার পর বাইরে এসে সাংবাদিকদের সামনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছে শিশুটি।
কে এই আদিত্য?
পাটনার পুনাইচকে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকে আদিত্য কুমার। ছোট্ট এই শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তার বাবা শ্রমিক, মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন।
View this post on Instagram
A post shared by Times Now (@timesnow)
তবে পরিবারের ভাষ্য, সংসারের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আদিত্যর আগ্রহের জায়গা অন্য রকম। খবরের কাগজ ও টেলিভিশনের সংবাদ দেখতে পছন্দ করে সে। দেশের রাজনীতি, সামাজিক ঘটনা এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল রয়েছে তার।
আরও পড়ুন
ভারতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ
এই কৌতূহলেরই একটি প্রকাশ তার স্কুলব্যাগে থাকা ভারতের সংবিধান। আদিত্য দাবি করেছে, সংবিধানের প্রায় ৮০ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলেছে। এখন পুরো বই পড়া শেষ করতে চায় সে।
আন্দোলনে বড়দের ভিড়ে ছোট্ট মুখ
পাটনার গার্দানিবাগ এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। পরীক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
সেই আন্দোলনেই একসময় দেখা যায় আদিত্যকে। বয়সে অন্যদের চেয়ে অনেক ছোট হলেও বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে তাকে বেশ স্বতঃস্ফূর্ত দেখায়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিত্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে।
কেন আন্দোলনে গেল সে?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আদিত্য তার নিজের ভবিষ্যতের কথাই বলেছে। তার যুক্তি, আজ যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন, কাল একই পরীক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি হবে তার প্রজন্ম।
আরও পড়ুন
ভারতে ফের রাস্তায় নামার ঘোষণা তেলাপোকা পার্টির
এখন সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে ভবিষ্যতে তাকেও এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তার উদ্বেগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে, তারপর থানায়
গার্দানিবাগের আন্দোলনের পর গত ২৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ হয় বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে। আদিত্যও সেখানে যায়।
তার পরিবার ও শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, সেখান থেকেই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাকে থানায় রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
তারপর যখন থানা থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয় আদিত্য। জানাতে শুরু করে পুলিশের কাছে থাকার অভিজ্ঞতার কথা।
থানা থেকে বেরিয়ে আদিত্য অভিযোগ করেছে, সেখানে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। তার আরও দাবি, পুলিশ তার মা-বাবাকে মারধর ও দুর্ব্যবহার করেছে।
আন্দোলনে আবার গেলে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সে।
মা-বাবা কী বলছেন?
আদিত্যর বাবা-মায়ের দাবি, আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিশুটির নিজের। তারা তাকে আন্দোলনে যেতে চাপ দেননি।
পরিবারের ভাষ্য, আদিত্য নিয়মিত খবর দেখে। বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কেও তার নিজের আগ্রহ তৈরি হয়।
সেই আগ্রহ থেকেই সে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্র: নিউজ ১৮, দ্য প্রিন্টকেএএ/