রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক হাফসা বেগমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির এক ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়।
‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তার বদলির আদেশ বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপ-সচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাফসা বেগমকে সরকারি বাঙলা কলেজে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রজ্ঞাপনের তথ্যমতে, বর্তমানে হাফসা বেগম মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
আরও পড়ুন
বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নতুন অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ
কিছুক্ষণ পরই মন্ত্রণালয়ের একই শাখার যুগ্মসচিব সাইয়েদ এ জেড এম মোরশেদ আলীর সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে হাফসা বেগমের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বাতিলের আদেশের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাফসা বেগমের (অধ্যক্ষ হিসেবে সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকায় বদলির আদেশাধীন) বদলি বা পদায়নের আদেশটি প্রশাসনিক কারণে নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক হাফসা বেগমের স্বামী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তিনি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে সচিব পদে যোগ দেন। ২০২৬ সালের মার্চে তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা জানান, সচিব রফিকুল ইসলাম জামায়াত-ঘেঁষা বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও তার স্ত্রী বিএনপিমনা। স্বামীর রাজনৈতিক আদর্শের কারণে সরকারি বাঙলা কলেজে অধ্যাপক হাফসা বেগমের বদলির আদেশ বাতিল করা হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে যুগ্মসচিব সাইয়েদ এ জেড এম মোরশেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বদলির আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক হাফসা বেগম বলেন, আমরা সরকারি চাকরি করি। কেউ রাজনীতি করি না। কী কারণে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে, সেটা বলতে পারবো না।
এএএইচ/এএমএ