সম্প্রতি আমাদের দেশের সুপরিচিত এক অভিনেত্রী ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দাবি করা হয়, তিনি গোপনে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বা কোনো দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিয়ে করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এই গুঞ্জন বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
ইওরোপীয় দেশগুলোর ভিসা বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’র খবর মাঝে মাঝেই শোনা যায়। অনেকে প্রশ্ন করেন, এভাবে ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ যদি কেউ করে, তাহলে তা ইসলামে জায়েজ হবে কি না? এ রকম বিয়ে করলে ইসলাম তাকে বিয়ে গণ্য করে কি না?
আরও পড়ুন
ড. ইউসুফ কারযাভী / মুতা বিয়ে কী এবং ইসলামে মুতা বিয়ের বিধান কী?
ইসলামে প্রতারণা বৈধ নয়
প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো, কোনো দেশের ভিসা বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য চুক্তিভিত্তিক বিয়ে ধোঁকা ও প্রতারণামূলক কাজ। ইসলামে প্রতারণা বৈধ নয়। একজন মুসলমান কখনো প্রতারণা করতে পারে না, কাউকে ধোঁকা দিতে পারে না। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয় বা প্রতারণা করে, সে আমার উম্মত হতে পারে না। (সহিহ মুসলিম: ১০২)
একজন মুসলমানের একটি আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য সততা ও সত্যবাদিতা; সত্য বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া, সত্য প্রতিষ্ঠা করা, সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকা। ধোঁকা, প্রতারণা, ভাণ ও ভণ্ডামি থেকে দূরে থাকা। মিথ্যা, ধোঁকা ও প্রতারণা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মুনাফিকরা নিজেদের বিশ্বাসের ব্যাপারে যেমন অসত্য কথা বলে, প্রতারণা করে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও মিথ্যাই তাদের স্বভাব। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি; কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা খেলাপ করে এবং আমানত রাখা হলে তাতে খেয়ানত করে। (সহিহ বুখারি: ৩৩)
সুতরাং একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের সব রকম ধোঁকা-প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে হবে।
আরও পড়ুন
বিয়ে প্রসঙ্গে মহানবীর (সা.) ৭ হাদিস
শরঈ নিয়মে বিয়ে করলে বিয়ে হয়ে যাবে
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো, ভিসা বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যও যদি বিয়ে হয়, শরঈ নিয়ম অনুযায়ী দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল করা হয়, তাহলে এই বিয়ে হয়ে যাবে। অর্থাৎ ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এটিকে প্রকৃত বিয়ে হিসেবেই দেখা হবে।
আল্লাহ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তিনটি বিষয় এমন যে, ইচ্ছাকৃত করলে ইচ্ছাকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছাকৃত বলে ধর্তব্য হয়; সেগুলো হলো, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রাজঈর পর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করা। (সুনানে তিরমিজি)
তাই যথাযথ সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুলের কথা বললে বিয়ে হয়ে যাবে। তারা যদি পরবর্তীতে পরস্পরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করতে চায়, তাহলে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী তালাকের মাধ্যমে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এই বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন না করে স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করলে ওই বিয়ে শুদ্ধ হবে না।
আর যদি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ে না হয়, শুধু কাগজপত্রে সিগনেচার করা হয়, তাহলে ইসলামে তা বিয়ে গণ্য হবে না, পরবর্তীতে তালাকেরও প্রয়োজন পড়বে না।
ওএফএফ