বলিউডের ফ্যাশনদুরস্ত অভিনেত্রীদের তালিকায় কৃতি শ্যাননের নাম এখন বেশ পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়েও বারবার আলোচনায় আসেন তিনি। কখনো সাবেকি শাড়িতে, কখনো গ্ল্যামারাস গাউনে, আবার কখনো একেবারে বোল্ড ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে-প্রতিটি সাজেই নিজের মতো করে আধুনিকতার ছাপ রাখতে ভালোবাসেন এই অভিনেত্রী।
রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি বিজ্ঞাপনে তার সাম্প্রতিক সাজও সেই ফ্যাশন ভাবনারই প্রতিফলন। রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতিকে দেখা গেছে অফ-হোয়াইট রঙের ব্রালেট-স্টাইলের ব্লাউজ, কেপ এবং ড্র্যাপড স্কার্টে।
পোশাকের কাটিং ও সিলুয়েটে ছিল সমসাময়িক ফ্যাশনের স্পষ্ট ছাপ। বিশেষ করে স্কার্টের ডাবল স্লিট পুরো লুকটিকে দিয়েছে আরও স্ট্রাকচার্ড ও গ্ল্যামারাস আবহ। ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে এমন আধুনিক পোশাকের মেলবন্ধনই তৈরি করেছে আলোচনার জায়গা।
কৃতির এই লুকের বিশেষত্ব ছিল এর মিনিমাল অথচ স্টেটমেন্টধর্মী উপস্থাপনা। অফ-হোয়াইট রঙের পোশাকের সঙ্গে তার মেকআপ রাখা হয়েছিল পরিপাটি ও গ্লোয়িং।
পোশাকের কাটিংকে প্রাধান্য দিতে অতিরিক্ত গয়না বা ভারী সাজের দিকে যাননি অভিনেত্রী। ফলে পুরো লুকে তৈরি হয়েছে আধুনিক, এলিগ্যান্ট এবং কনফিডেন্ট একটি আবহ।
তবে ফ্যাশনের পাশাপাশি এই সাজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় আলোচনা। রাখির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বিজ্ঞাপনে এমন পোশাক কতটা মানানসই-এই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাদের মতে, উৎসবটির সাংস্কৃতিক আবহের সঙ্গে আরও ঐতিহ্যবাহী পোশাক মানিয়ে যেত।
আলোচনার মধ্যেই কৃতির পোশাক নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও রাজনীতিক কঙ্গনা রনৌতও কৃতির এমনকি ‘বিকিনি’ পরে রাখি বাঁধার প্রসঙ্গ টেনে বিজ্ঞাপনটিকে অস্বস্তিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা মধু চোপড়া। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল-নিজের শরীর ও পোশাক সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের অনুভূতি ও মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান থাকা জরুরি। অর্থাৎ ফ্যাশনে ব্যক্তিস্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনাও প্রয়োজন।
তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয় গিভা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি তারা যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে কোনোভাবেই মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।
কৃতির ফ্যাশন সেন্স অবশ্য কোনো লুকেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেও তাকে সাহসী কাটআউট ড্রেসে দেখা গেছে। কখনো এক্সট্রিম কাটআউট জঙ্গল প্রিন্টের মিনি ড্রেস, কখনো ম্যাচিং বিকিনি টপ ও স্লিট স্কার্ট, আবার কখনো ফ্রিঞ্জ স্কার্টের সঙ্গে ব্রালেট টপ ও শার্ট-বিভিন্ন লুকে নিজের স্টাইলের বহুমাত্রিকতা দেখিয়েছেন তিনি।
কৃতির স্টাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পোশাককে নিজের আত্মবিশ্বাস দিয়ে বহন করা। তিনি কখনো সম্পূর্ণ সাবেকি সাজে ফিরে যান, আবার কখনো পাশ্চাত্য কাটিংয়ের সঙ্গে ভারতীয় আবহ মিশিয়ে তৈরি করেন ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুক। তাই তার ফ্যাশনে একই সঙ্গে থাকে নারীত্ব, গ্ল্যামার এবং আধুনিকতার ছোঁয়া।
কৃতি এর আগে পোশাক নিয়ে ফ্যাশনে নতুন করে ভাবার জায়গা করেছিল। অনেক ছবিতে তিনি দেখিয়েছেন পোশাকের সৌন্দর্য শুধু তার কাটিং বা ডিজাইনে নয়, সেটি কে কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বহন করছেন। আর সেই জায়গায় কৃতির ফ্যাশন স্টেটমেন্ট বরাবরই বেশ স্পষ্ট।
সূত্র: এনডিটিভি এসএকেওয়াই