ইসরায়েলি নির্যাতন-হামলা প্রতিদিন ঘটলেও তা সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রাত্যহিক আয়োজনে স্থান পায় না। এর মূল কারণ, ব্যক্তিভেদে কিছু ঘটনার গুরুত্ব কম আবার কিছু গল্পের কাটতি কম। তাই, সংবাদ হওয়ার জন্য কখনো কখনো মৃত্যুর একটি বড় সংখ্যা প্রয়োজন হয়; যেমন-গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজার মৃত্যু।
তবে, ইসরায়েলি নৃশংসতার কিছু একক ঘটনা মানুষের বিবিকের কাছে প্রশ্ন রেখে যায়। এমন দুটি ঘটনা নিয়ে এই সংবাদ-
নববধূ সাজা শারারা
দক্ষিণ লেবাননের আরবসালিমে একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাজা শারারা নামে এক নববধূ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার মাত্র দুই দিন আগে তার বিয়ে হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আরবসালিমের আবাসিক এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। পরে নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার ওপরও হামলা চালানো হয়।
আরবসালিমের মেয়র আলি হাসান জানান, একটি ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে ওই তরুণী নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের আরবসালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা, আল-মানসুরি ও আলি আল-তাহের উচ্চভূমিসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি বিস্ফোরক ও অগ্নিসংযোগকারী পদার্থ নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালিয়েছে।
খ্রিস্টান সন্ন্যাসীণীর মাথায় লাথি:
জেরুজালেম শহরের কাছে মাউন্ট জায়নে অবস্থিত খ্রিস্টান ও ইহুদিদের একটি পবিত্র স্থান সেনাকল। ঠিক তার বাইরে ৪৮ বছর বয়সি ফরাসি এক ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বাসিন্দা ইয়োনা শ্রাইবার।
ওই নারীকে মাটিতে ফেলে মাথায় লাথি মারেন শ্রাইবার। শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ওই নারীকে চিকিৎসা নিতে হয়।
এ হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং শ্রাইবার আটক হন। কিন্তু মানসিক কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি আদালত ইয়োনা শ্রাইবারকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ইহুদি উগ্রপন্থিদের মাধ্যমে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার ক্রমবর্ধমান ঘটনার অংশ হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম
কেএম