রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গ্যাস লিকেজজনিত ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ভৈরবের জাকির হোসেনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
নিহত জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত রতন মিয়ার বড় ছেলে। তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাশিয়ার সিনোপেক কোম্পানিতে ঘটা বিস্ফোরণে নিহত হন জাকির। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে তার গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র দেড় বছর আগে জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির। সেখানে রাশিয়ার আমুর এলাকায় এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীন একটি গ্যাস কমপ্লেক্সে চাকরি করতেন তিনি। তার আয়ে ধারদেনা পরিশোধ করে কোনোমতে চলছিল সংসার। সম্প্রতি তার একটি প্রমোশন হয়। এতে পরিবারের মধ্যে আশার আলো দেখা দিলেও তা এখন শোকে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাশিয়ায় গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশিসহ নিহত ১৫
নিহতের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, জাকিরের পরিবার অত্যন্ত অসহায় ও অসচ্ছল। দেশে থাকা অবস্থায় তিনি রিকশা চালানোসহ নানা কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে দেড় বছর আগে সম্পত্তি বিক্রি ও ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সম্প্রতি গ্যাস কোম্পানিতে নতুন চাকরি পেলেও গ্যাস বিস্ফোরণে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এতে পরিবারটি যেমন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়েছে, তেমনি মাথার ওপর চেপে বসেছে ঋণের পাহাড়। পরিবারের পক্ষ থেকে জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। তার স্ত্রী ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা হলো জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অসহায় পরিবারটি যেন সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পায়, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
রাজীবুল হাসান/এসআর