বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। অফিসের কাজ ঘরে বসে কাজ করার ক্ষেত্রে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। বিশেষ করে শহরের ছোট ফ্ল্যাটে আলাদা অফিসরুমের ব্যবস্থা করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। ফলে ডাইনিং টেবিল, সোফা কিংবা বিছানার একাংশেই তৈরি হয় অস্থায়ী কর্মক্ষেত্র। এতে যেমন ঘর অগোছালো লাগে, তেমনি দীর্ঘক্ষণ কাজ করার কারণে শরীরেও পড়তে পারে বাড়তি চাপ।
তবে জায়গা কম হলেই যে আরামদায়ক ও সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরি করা যাবে না, তা নয়। একটু পরিকল্পনা ও সঠিক আসবাব নির্বাচন করলেই ছোট জায়গাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা যায় নিজের ছোট অফিস।
ভাঁজ করা আসবাব হতে পারে সমাধান
ছোট ঘরের জন্য ফোল্ডিং টেবিল বেশ কার্যকর। কাজের সময় টেবিলটি খুলে ব্যবহার করা যায়, আবার কাজ শেষ হলে সহজেই গুটিয়ে রাখা সম্ভব। এতে একই জায়গা অন্য কাজেও ব্যবহার করা যায়। ছোট ফ্ল্যাটে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এমন মাল্টিফাংশনাল আসবাব বেশ উপযোগী।
দেয়ালের তাকেই গুছিয়ে রাখুন প্রয়োজনীয় জিনিস
দেয়ালকে বানান স্টোরেজ
মেঝেতে জায়গা না থাকলে তাক তৈরির জন্য ব্যবহার করতে পারেন দেয়াল। কাজের টেবিলের ওপরে বা পাশে ছোট কয়েকটি ওয়াল শেলফ বসানো যায়। সেখানে বই, নোটবুক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা স্টেশনারি রাখা যাবে। ফলে ডেস্কের ওপর জিনিসপত্রের স্তূপ জমবে না এবং কাজের জায়গাটিও থাকবে পরিপাটি।
প্রাকৃতিক আলোয় রাখুন কর্মক্ষেত্র
সম্ভব হলে জানালার কাছাকাছি এমন একটি জায়গা বেছে নিন, যেখানে দিনের আলো ভালোভাবে আসে। প্রাকৃতিক আলো ঘরকে উজ্জ্বল রাখার পাশাপাশি কাজের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। জানালার পাশে বসার সুযোগ না থাকলে এমন আলো ব্যবহার করুন, যা পর্যাপ্ত উজ্জ্বল কিন্তু চোখের জন্য অস্বস্তিকর নয়।
চেয়ার নির্বাচনে আপস নয়
জায়গা বাঁচাতে গিয়ে চেয়ার নিয়ে আপস করা ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও শরীরের উপযোগী চেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ভঙ্গিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও কোমরে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই ছোট জায়গার জন্যও এমন চেয়ার বেছে নিন, যাতে বসার ভঙ্গি স্বাভাবিক থাকে। প্রয়োজনে ফোল্ডিং বা সহজে সরানো যায় এমন চেয়ারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
আসবাবের ঘষায় দেয়ালের দাগ পড়া আটকাবেন যেভাবে
কাজের জায়গা আলাদা করুন
আলাদা ঘর না থাকলেও কাজের জন্য নির্দিষ্ট একটি অঞ্চল তৈরি করা সম্ভব। বইয়ের তাক, পর্দা, হালকা পার্টিশন কিংবা ছোট ক্যাবিনেট ব্যবহার করে ঘরের একাংশকে আলাদা করে নিতে পারেন। এতে কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। একই সঙ্গে কাজ শেষ হলে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার একটি মানসিক অভ্যাসও তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
প্লাস্টিকের চেয়ার ঘরোয়া উপায়ে পরিষ্কার করবেন যেভাবে
ছোট অফিস তৈরির জন্য বড় ঘর বা দামি আসবাবের প্রয়োজন নেই। বরং জায়গার ধরন বুঝে সঠিক টেবিল, আরামদায়ক চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো এবং গোছানো স্টোরেজ বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি কোণকেও পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে তুলতে পারলে সেখানে কাজ করা যেমন স্বস্তিদায়ক হবে, তেমনি ঘরের সৌন্দর্যও নষ্ট হবে না। সূত্র: অ্যাপার্টমেন্ট থেরাপি, ক্ল্যাসিক ক্যাজুয়েল হোম
এসএকেওয়াই