নীলফামারীর সৈয়দপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মিস্ত্রীপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নবীনগর এবং শাখাওয়াত তালাও এলাকার দুটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে ওইদিন দুপুরে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদেরকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় তারা ওই এলাকার বেশ কয়েকটি সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং বাড়ির ভেতরে থাকা নারী ও পুরুষদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
গাজীপুরে একদিনে শিশুসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের পাড়ায় ঢুকে পড়ে। তারা আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আমাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করেছে। অথচ এই দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশকে দেখা মাত্রই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে স্লোগান দেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
ওসি বলেন, বর্তমানে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে মিস্ত্রিপাড়া মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করলে পরিবেশ শান্ত হয়।
আমিরুল হক/এনএইচআর