ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা অতীতের সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অতীতের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের ২০২৭-২৮ সেশনের নবগঠিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস অতিক্রম হওয়ার পরও জাতীয় সংকট নিরসনে টেকসই কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারেনি। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সয়লাবে ছাত্র ও যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নীতি-নৈতিকতাহীন ও অমানবিক একটি সমাজব্যবস্থার দিকে দেশ ধাবিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
লোডশেডিং কমান, না হলে মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে: চরমোনাই পীর
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রতিকারে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির নেতারা শপথ নেন।
নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম দায়িত্ব পেয়েছেন। সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন মুফতি ওয়ালীউল্লাহ, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম ও ডা. মুজিবুর রহমান।
জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি ফরিদ ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোস্তফা আল-মামুন মনির। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দীন, মুফতি নিজাম উদ্দীন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস রশিদী, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, হাফেজ আবু হানিফ ভূঁইয়া ও মুফতি হাফিজুল হক ফাইয়াজ।
এছাড়া কমিটিতে প্রচার সম্পাদক মুফতি মাসুদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. শরিফুল্লাহ শাকিল, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এবিএম রাকিবুল হাসান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম, দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা ডা. সাব্বির খান, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা সাব্বির আহমেদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ইউনুস তালুকদার, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মাস্টার আমিনুল ইসলাম তালুকদার (অব.), নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুফতি সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন পদে নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুফতি অলিউল্লাহ, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম, ডা. মুজিবুর রহমান, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, এস এম মোস্তফা আল মামুন মনির, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন পরশ, মুফতি নিজাম উদ্দিন, মুফতি আব্দুল কুদ্দুস রশিদী, মুফতি আরমান হোসাইনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/এমআইএইচএস