তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের দৃষ্টান্ত বিএনপিই তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—বিএনপির নেতৃত্ব তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
গ্রাম আদালত পরিচালনা / সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্বীকৃতি-প্রণোদনা দেবে সরকার
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংগঠন একটি কাঠামোর মাধ্যমেই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আজকের সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটি সেই কাজটি করছে।
ইউনিয়ন পরিষদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে আলাল বলেন, এ অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে পুরোনো কাঠামোগুলোর একটি ইউনিয়ন পরিষদ। নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থাকে আরও তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদেরও এক ধাপ নিচে গ্রাম সরকার গঠন করেছিলেন তিনি। বর্তমানে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা না থাকলেও জিয়াউর রহমানের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য আলাল বলেন, ‘জনকল্যাণের জন্য যা কিছু এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে যা কিছু, সবকিছুর মূল উদ্যোক্তা কিন্তু বিএনপি। হয় জিয়াউর রহমান, নয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, না হয় তারেক রহমান।’
আরও পড়ুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে বিএনপি: রিজভী
তারেক রহমানের ২০০৪ সালের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আলাল বলেন, ওই সময় তারেক রহমান সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ঠাকুরগাঁও থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এসব দাবি সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে উপস্থাপন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে আলাল বলেন, বর্তমান বাজারব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘শায়েস্তা খানের আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। এখন এক টাকায় কিছুই পাওয়া যায় না।’ বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান
ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়, সহকারী ও অন্যান্য কার্যক্রমের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন আলাল। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যরা।
কেএইচ/এমএমকে