জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ ওঠার পর ছুরিকাহত হন বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ (৫৫)। পরে তার করা মামলায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হারুনুর রশিদ স্থানীয় রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে পৌরশহরের কলেজপাড়া মহল্লার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার রোয়াইড়-রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে হারুনুর রশিদ ছুরিকাহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে হারুনুর রশিদের স্ত্রী মোছা. শামীমা আক্তারের মাধ্যমে থানায় এজাহার পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তার স্ত্রী সোনামুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. শামীমা নাসরিন, তার বড় ভাই দুলাল হোসেন ও দারাজ উদ্দিন এবং চাচাতো ভাই গাজীউলকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তার বাঁ হাতের বাহুতে কাটা জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে একজন তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হারুনুর রশিদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছিলেন।
এর আগে আক্কেলপুর রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে হারুনুর রশিদের বিরোধের সূত্রপাত। গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাক্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি পায়ের জুতা খুলে প্রধান শিক্ষককে পেটান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ, শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানকে আসামি করা হয়।
শনিবার থানায় সাংবাদিকদের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ তাকে জুতাপেটা করেছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলা তুলে নিতে হারুনুর রশিদ তাকে চাপ ও চাকরি খাওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন হামলা ও ছুরিকাঘাতের ‘সাজানো নাটক’ করে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, হারুনুর রশিদের করা মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/এনএইচআর