
দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া। আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার কারণে দেশে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এখন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে চায় সরকার। গত ৬ মাসে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচি ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট আড়াল না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে সরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে জ্বালানিনিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও কমবে। দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদন ও অর্থায়ন করা হবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের জন্য বাজেটে রাখা দুই হাজার কোটি টাকা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের বিদ্যুতের ব্যবহারকারীর পাশাপাশি উৎপাদক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ জন্য নেট মিটারিং–ব্যবস্থার জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইডকল ও বিআইএফএফএলের মতো প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়নে যুক্ত করা হবে। কোনো গ্রাহক বা উৎপাদক মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ দেবেন, আরেকটি প্রতিষ্ঠান বা অ্যাগ্রিগেটর দেবে ২০ শতাংশ। বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এতে ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানান উপদেষ্টা।
পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি। পরে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিকেএসএফ পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মো. ফজলুল কাদের বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি নিরসন ও অর্থায়নের মাধ্যমে এসব কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতেও কাজ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পিকেএসএফের পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকার আরও অর্থ দেবে। পাশাপাশি অংশীদার সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও অর্থায়ন করা হবে।
বৈঠক শেষে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি বিষয় বা ক্লাস্টার নিয়ে কাজ করবে। এগুলো হলো ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’, সৌরবিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ও নতুন কর্মসংস্থান; আর কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলো সরকারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।