বিধ্বংসী বন্যা-ভূমিধসের তিন দিন পরও নেপালে চলছে উদ্ধার অভিযান; ত্রিশুলি-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার।
বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসের তিন দিন পরও নেপালে উদ্ধার অভিযান থামেনি। এবার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতরে আটকে পড়া ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিককে উদ্ধারে ড্রিলিং সরঞ্জাম নিয়ে জোরদার অভিযান শুরু করেছে নেপালি সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর থেকেই রাসুয়া জেলার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কার এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর পথ তৈরির কাজ শুরু হয়। টানেলের মুখে জমে থাকা কাদা, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টানেলের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কারের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদা ও বিশাল পাথরের স্তূপ টানেলের প্রবেশমুখ প্রায় পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। ফলে সরাসরি টানেলের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ড্রিলিং মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে টানেলের বাইরের অংশ শনাক্ত এবং প্রবেশের বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে আকস্মিক পানির প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ওই এলাকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত বহু মানুষ নিখোঁজ হন।
এর আগে নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ঘটনাস্থল থেকে কয়েক শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো শতাধিক শ্রমিক টানেলের ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর রাসুয়াসহ নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে ধ্বংসস্তূপ ও পাথরে বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগপথ, অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকারীদের কাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তারপরও টানেলের ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা। টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করে দ্রুত ভেতরে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য।
সহায়তায় ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল
উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ভারত একটি বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। নেপালের অনুরোধের পর দলটি ত্রিশুলি এলাকায় পৌঁছেছে। উদ্ধার অভিযান শুরুর আগে তারা আকাশপথে ঘটনাস্থলের একটি প্রাথমিক জরিপ করবে বলে জানিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। হিমালয় অঞ্চলে দুর্গম ও সংকীর্ণ স্থানে উদ্ধার অভিযানে ভারতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংকীর্ণ জায়গায় প্রবেশ করে কাজ করতে সক্ষম বিশেষজ্ঞরাও এই অভিযানে সহায়তা করতে পারেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে বুধবার ভয়াবহ পানির স্রোত ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীগুলোর পানি ফুলে-ফেঁপে উঠে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও যোগাযোগব্যবস্থা। দুর্যোগের তিন দিন পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যেই টানেলের ভেতরে আটকে থাকা শতাধিক শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে ড্রিলিংসহ আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনী।
সূত্র: এনডিটিভি, মালয় মেইল