গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে চার দর্শনার্থী ও পার্কের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পার্কে এ মারামারি হয়। এ ঘটনায় আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আহতরা হলেন রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকার সালমা হোসেন (৪৪), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭), জারিফ (১৫) ও তাদের গাড়িচালক মো. রাসেল (২৫) এবং পার্কের আউটসোর্সিং কর্মচারী মো. মুমিন ও মাসুদ রানা।
সালমা হোসেন অভিযোগ করেন, পার্কের কোর সাফারির দর্শনার্থী বাসের ভেতর ময়লা ও আবর্জনা থাকায় তা পরিষ্কার করতে বলেন তারা। এতে কর্মচারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। সেই সঙ্গে রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে জারিফ, আহনাফ ও চালক রাসেলকে মারধর করেন। এসময় তিন ভরি ওজনের সোনার চেন ও নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায় এবং মোবাইল ভাঙচুর করা হয়।
এ বিষয়ে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান বলেন, দর্শনার্থী বাসে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এসময় দর্শনার্থীর এক সন্তান ওই কর্মচারীকে মারধর করে। পরে তাদের পরিদর্শন শেষে পার্ক অফিসে নিয়ে বসতে চাইলে তারা ফের উত্তেজিত হয়ে হামলায় করে। এতে দুই কর্মচারী আহত হন। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও তিনজন আহত হলেও চিকিৎসা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বাল্যবিয়ে বন্ধ, ইউএনওর গাড়িতে হামলা করে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটসোর্সিং স্টাফ মো. ফরহাদ নামের একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
যোগাযোগ করা হলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিহাব খান/একিউএফ