নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তসরাষ্ট্রের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশিও রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেগুলো উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা কমে অন্তত ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এর আগে চীনে বন্যায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজের সংখ্যা আগে ৫৫৪ জন বলা হলেও তা কমে ৫৪৬ হয়েছে।
গত বুধবার চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের অন্যান্য এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বন্যায় ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতু, বসতি এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
এই দুর্যোগের পর আরও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের সংখ্যা নিরূপণের কাজ চলায় এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিদেশি ও নেপালি নাগরিক মিলিয়ে মোট ৭৫৩ জন পর্যটকেরও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়।
এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অবশ্য শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চার ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।