ছয় ম্যাচের ৫টিতে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। কিন্তু ফাইনালে ওঠা হলো না তাদের। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে আসর থেকে ছিটকে গেছে ইরফান শুক্কুরের দল।
যদিও স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলাররা যথেষ্ট লড়াই করেছেন, প্রতিপক্ষের ৯ উইকেটও তুলে নিয়েছিলেন। এমনকি শেষদিকে বেশ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশের।
রোববার ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ায় টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে ১ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ এইচপি। টস হেরে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৪৯ রানে থাকা দল ২১ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে আরও ছয় উইকেট। শেষ পর্যন্ত তারা গুটিয়ে যায় ১০১ রানে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি রুবেলের জাদুতে এই স্বল্প পুঁজি নিয়েও লড়াই করেছে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত ২ বল হাতে রেখেই ১ উইকেটের জয়ের তুলে ফাইনালে ওঠে ভিক্টোরিয়া।
ছোট পুঁজি রক্ষার মিশনে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ভিক্টোরিয়া ওপেনার ডিক্সনকে বোল্ড করেন রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। পিচ করে আরও ভেতরে ঢোকা বলে কিছুই বুঝতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর টম রজার্স ও ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে সতর্ক ব্যাটিং শুরু করেন। তবে তাদের জুটি বেশি স্থায়ী হয়নি, সপ্তম ওভারে রজার্সকে আউট করে জুটি ভেঙে দেন শামীম পাটোয়ারী।
এরপর বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুললেও ছোট ছোট জুটিই এগিয়ে দিচ্ছিল ভিক্টোরিয়াকে। দলীয় ৫৫ রানে ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৩ রান করা কেলাওয়েকে ফেরান শামীম। ২০ রানের জুটির পর আবু হায়দার বিদায় করেন ব্লেক ম্যাকডোনাল্ডকে। ৩৫ থেকে ৭৫ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারালেও ২০ রানের দুটি জুটি ভিক্টোরিয়াকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়।
তবে পুরো আসরজুড়ে ভেলকি দেখানো রুবেল লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। জয়ের জন্য তখন ২১ রান দরকার, উইকেট বাকি ৬টি। এরপরই আচমকা পরিস্থিতি বদলে দেন রুবেল। টানা দুই বলে তিনি বিদায় করেন উইল সাদাল্যান্ড ও স্যাম এলিয়টকে। এরপর ১০ রানের মধ্যে পড়ে আরও ১০ উইকেট। এমনকি শেষ ওভারেও ছিল নাটকীয়তা।
স্কোর তখন সমান। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলটিতেই রান আউট হন টড মার্ফি। বোলার শামীম হোসেন রান দিলেন না পরের দুই বলেও। সুপার ওভার হবে কিনা সেই আলোচনাও চলমান। তবে চতুর্থ বলটিতে জায়গা বানিয়ে কাভার দিয়ে চার মেরে দিলেন লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড। শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় ভিক্টোরিয়া।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাচের প্রথম বলেই স্লগ করে থার্ডম্যানে সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান হাবিবুর রহমান সোহান। তার সঙ্গী জিসান আলম দারুণ এক ফ্লিক শটে ছক্কা মারেন ওই ওভারেই। প্রথম ওভার থেকে আসে ১৩ রান। তৃতীয় ওভারে সাদারল্যান্ডের লেন্থ বলে পুল করার চেষ্টায় কিপারের হাতে ধরা পড়েন সোহান, করেন ৫ বলে ৩ রান। এই টুর্নামেন্টে ৭ ইনিংসে তার রান ৮৫, স্ট্রাইক রেট ১১১.৮৪। জাতীয় দলের ব্যাটার শামীম হোসেনও এই টুর্নামেন্টে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেন। ব্যাট হাতে ৭ ম্যাচে এক ফিফটিতে ১০৭ রান করেছেন তিনি।
তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলাম প্রথম বলেই একটু জায়গা বানিয়ে দৃষ্টিনন্দন শটে ছক্কা মারেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। পরের ওভারে তিনি চার মারেন তিনটি। ৪ ওভারে ৪৬ তুলে ফেলে বাংলাদেশ এইচপি। এরপরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। পরের ৫২ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ১০১ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার আবু হায়দার (১৮ বলে ১০) ও সাকলাইন (১০ বলে ৬)। শেষ দিকে রিপন মণ্ডল ও রুবেলের দুটি বাউন্ডারিতে কোনোরকমে একশ পার হয় দল।
এসকেডি/আইএন