জাতীয় দলের বাইরে থাকা কিংবা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলের রাডারে থাকা ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কেউ বয়সভিত্তিক দলের হয়ে মাঠে নামছেন, কেউ ‘এ’ দলে, আবার কেউ নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায়। সব মিলিয়ে জাতীয় দলের পাইপলাইন থাকা ক্রিকেটারদের জন্য চলছে নিজেদের মেলে ধরার ব্যস্ত সময়।
মিরপুরে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি। এর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলে এসেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এখন মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলও। আর অস্ট্রেলিয়ায় টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল।শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা হয়নি এইচপি দলের। সেমিফাইনালে থেমেছে তাদের পথ। তবে ফাইনালে জায়গা না পেলেও পুরো আসরে পাইপলাইনের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন ‘রহস্য স্পিনার’ মোহাম্মদ রুবেল। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার বোলিং নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ। জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ার দৌড়ে তাই রুবেলের নাম এখন বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাব্বির রহমানও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্যাট হাতে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। রান পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। অন্যদিকে তরুণ আরিফুল ইসলামও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তার পারফরম্যান্সও নির্বাচকদের নজরে আসার মতো।
তবে সবার গল্পটা একই রকম নয়। ইরফান শুক্কুর ও শামীম পাটোয়ারীরা পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না পাওয়ায় তাদের নিয়ে তাই সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ কমই।
গেলো বিপিএলে রুবেলকে দলে নিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তখনই তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ২৯ বছর বয়সে দেশের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টে সুযোগ পাওয়া রুবেল এরপর শুধু ছুটেই চলেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ২০ উইকেট। এরপর প্রথমবার গেলেন দেশের বাইরে। অস্ট্রেলিয়ায় টপ অ্যান্ড টেন টুর্নামেন্টেই গিয়েই বাজিমাত করেছেন রুবেল। ৭ ম্যাচে নিয়েছেন ২৩ উইকেট।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির সঙ্গে তার উইকেটের ব্যবধান ১০টি! এমনকি সেমিফাইনালে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দিনেও রুবেলের ভেলকিতেই লড়াই করেছে বাংলাদেশ। ১০১ রান ডিফেন্ড করতে নেমে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। বাংলাদেশের মধ্যে তার পর সর্বোচ্চ ৮ উইকেট রিপন মন্ডলের, আর ৭ নিয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে কতটা দাপট দেখিয়েছেন রুবেল।
ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছেন তরুণ আরিফুল ইসলাম। ৭ ম্যাচে ১৩৮ স্ট্রাইক রেটে ২ ফিফটিতে করেছেন ২১৯ রান। তার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাব্বির রহমানের, ৭ ম্যাচে ১৮৪ রান। তার স্ট্রাইক রেটটা একটু কম যদিও ১২৪! আরিফুল এখনো জাতীয় দলে খেলেননি, আর সাব্বির ছিটকে গেছেন অনেকদিন আগেই। ফলে দুজনের লক্ষ্য একই হলেও লড়াইয়ের পরিস্থিতিটা ভিন্ন।
জাতীয় দলে টানা ব্যর্থতায় গেলো জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েন শামীম। তার আগে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র দুটি ত্রিশোর্ধ ইনিংস ছিল তার। এরপর টপ অ্যান্ড টেন টুর্নামেন্টে পাঠানো হয় শামীমকে। রানে ফেরা তো দূরের কথা শামীম পুরো টুর্নামেন্টেই ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। ব্যাট হাতে ৭ ম্যাচে এক ফিফটিতে ১০৭ রান করেছেন তিনি। ফলে রানে ফেরার বদলে আরও রান খরায় ডুবে গেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাতে জাতীয় দলে ফেরা আরও কঠিন হয়ে গেলো শামীমের জন্য।
সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টির ভবিষ্যৎ বলে যাদের বিবেচনা করা হচ্ছিল তাদের মধ্যে জিসান আলম ও হাবিবুর রহমান সোহান অন্যতম। দুজনই টপ অ্যান্ড টেনে ব্যর্থ হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ১০২ রান করেছেন জিসান আর সব ম্যাচ খেলা সোহানের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৮৫ রান। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছেন ইরফান শুক্কুর। ৬ ইনিংস ব্যাটিং করে মাত্র ৭২ রান করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ৬ ম্যাচের ৪টিতেই এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন তিনি। যথারীতি ব্যর্থ ছিলেন সেমিফাইনালেও (গোল্ডেন ডাক)।
এর আগে দুইবার টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলেছে বাংলাদেশ। একবার প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েছে, আরেকবার রানার্সআপ হয়েছে। সাধারণত বিভিন্ন দেশের ক্লাব ও ‘এ’ দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। এবার দেশ ছাড়ার আগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা বলেছিলেন শুক্কুর। কিন্তু নিজেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন, দলও বাদ পড়েছে ফাইনালের আগেই।
এসকেডি/আইএন