বক্স অফিসে দারুণ সাফল্যের পর এবার মানবিক উদ্যোগের জন্যও আলোচনায় এসেছে মারাঠি সিনেমা ‘দেউল ব্যান্ড ২’। মাত্র ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির পর এরই মধ্যে শতকোটি রুপির বেশি আয় করেছে। আর সিনেমার এই সাফল্যের লাভের অংশ এবার পৌঁছে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সন্তানদের কাছে।
আরও পড়ুন
সালমান শাহ করেছিলেন ৬০ শতাংশ শুটিং, সিনেমাটি শেষ করেন ওমর সানি
গত ২১ মে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের নজির তৈরি করেছে। তবে নির্মাতাদের কাছে শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই বড় হয়ে ওঠেনি; সিনেমা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে অসহায় কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন সিনেমাটির পরিচালক প্রবীণ তার্দে। তিনি বলেন, প্রযোজকেরা চেয়েছিলেন ‘দেউল ব্যান্ড ২’-এর সাফল্যের সুফল মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে যাক।
পরিচালক জানান, সিনেমার নির্মাণ ব্যয় উঠে আসার পর মুনাফার একটি অংশ নিজেদের কাছে না রেখে কৃষক পরিবারের সন্তানদের সহায়তায় দেওয়া হচ্ছে।
প্রবীণ তার্দে বলেন, ‘ধারদেনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত হয়ে যেসব কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের সন্তানদের আমরা এই অর্থ দান করেছি। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে তারা আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রের খরাকবলিত অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ শুরু করেছি।’
নির্মাতাদের আশা, এই সহায়তার মাধ্যমে আর্থিক সংকটে পড়া কৃষক পরিবারের সন্তানরা আবার স্কুলে ফিরতে পারবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
শুধু শিক্ষার খরচ বহন নয়, সিনেমাটির মুনাফার অর্থ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ শিশুর দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রযোজক কৈলাস ওয়ানির সহযোগিতায় আগামী বছরগুলোতেও এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেউল ব্যান্ড’ সিনেমার সিকুয়েল ‘দেউল ব্যান্ড ২’। দীর্ঘদিনের খরা, ঋণের বোঝা, ফসলের ক্ষতি ও সামাজিক অবহেলার কারণে কৃষকদের জীবনে নেমে আসা সংকটই সিনেমাটির মূল বিষয়।
আরও পড়ুন
সেই ঘড়ি এখন কোটি টাকা, তবু বড় ভাই সোহেল রানার ইচ্ছা পূরণ করলেন রুবেল
সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষকদের আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের পেছনের বাস্তবতা। পাশাপাশি এতে তুলে ধরা হয়েছে মানবিকতার বার্তা। শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা বা উপাসনা করাই ধর্ম নয় বরং বিপদে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সহায়তা করাই প্রকৃত মানবতা ও ধর্ম।
বক্স অফিসের সাফল্যকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে ব্যবহার করে ‘দেউল ব্যান্ড ২’ তাই সিনেমার বাইরেও তৈরি করেছে ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত।
এলআইএ