ভারতের মানচিত্রে খনিজ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে নাম লেখাল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে রাজ্যটিতে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে খনিজ তেল উত্তোলন।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায় ২০১৯ সালে। তৎকালীন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অশোকনগরে গিয়ে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন (ওএনজিসি)-এর মাধ্যমে অপরিশোধিত খনিজ তেল বা ক্রুড অয়েল উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন। তবে কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই প্রকল্পটি বন্ধ হয়েছিল বলে জানা যায়।
সাত বছর আগে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল গোটা ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে, অবশেষে তা পূর্ণতা পেল ২০২৬ সালে। অশোকনগরের বাইগাছিতে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে খনিজ তেল উত্তোলন।
জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরের বাইগাছিতে ওএনজিসির প্রকল্প থেকে প্রথম ধাপে প্রায় ১২ হাজার লিটার অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন করা হয়েছে। সেই অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে করে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে পাঠানো হয়েছে।
অশোকনগরের বাইগাছিতে ওএনজিসির কেন্দ্রে মাটির প্রায় ২ হাজার ৩৯৬ মিটার গভীর থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন শুরু হয়েছে। দৈনিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ ঘনমিটার অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার খনিজ তেল উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়ে গেছে।
এই তেল উত্তোলনের ফলে ভারতের মানচিত্রে খনিজ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে স্থান করে নিল পশ্চিমবঙ্গ। প্রাথমিকভাবে এই তেলক্ষেত্রে মোট ছয়টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি কূপ খনিজ তেলের জন্য এবং বাকি দুটি গ্যাস উত্তোলনের জন্য।
এই খনিজ তেল উত্তোলনের সূচনা করেন ওএনজিসির ডিরেক্টর ওমপ্রকাশ সিনা এবং অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা।
এ বিষয়ে ওএনজিসির ডিরেক্টর ওমপ্রকাশ সিনা বলেন, বছর তিনেক আগে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন করা হয়েছিল। তখন কিছু সমস্যার চিহ্নিত হয়। বর্তমানে বাইগাছি থেকে যে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তার গুণমান আগের তুলনায় ভালো। বর্তমানে দেশের প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আগামী দিনে সেই নির্ভরতা যতটা সম্ভব কমিয়ে দেশের মাটিতেই তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোই লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, উত্তোলিত খনিজ তেলের সঙ্গে পানি থাকবে। প্রথমে পানি থেকে তেল আলাদা করা হবে। পরে সেই অপরিশোধিত তেল শোধনাগারে পাঠিয়ে পরিশোধন করা হবে।
বিধায়ক সুময় হীরা জানান, ওএনজিসির উত্তোলন করা তেল শোধনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই তেল উত্তোলনের ফলে অশোকনগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে এবং বেশ কিছু কর্মসংস্থানের পথও খুলবে। আগে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিল, সেগুলির সমাধান করে ফের তেল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে।
বাইগাছির অপরিশোধিত তেলের API গ্র্যাভিটি ৪০ থেকে ৪১। গুণমানের বিচারে এই তেল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উত্তোলন কেন্দ্র ‘বোম্বে হাই’-এর তেলের সঙ্গে তুলনীয় বলে জানা গেছে।
ডিডি/কেএএ