চট্টগ্রামের লালদিয়ায় ডেনমার্কের ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ কাজ আজ থেকে আনুষ্ঠানিক শুধু করছে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। আগামী তিন বছরে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০৩০ সালে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চট্টগ্রাম বন্দরও একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সরকার নীতিসহায়ক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এপি মোলারের বাংলাদেশে আসাটা একটি মাইলফলক। তারা লালদিয়ায় একটি আধুনিক বন্দর টার্মিনাল নির্মাণ করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড।
এ সময় বক্তব্য দেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জকরিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান এবং এপিএম টার্মিনালস বিভির গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জেক ক্রেইগ।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সরওয়ার জামাল নিজাম ও এরশাদ উল্লাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ড্যানিশ শিপিং জায়ান্ট এপি মোলার-মায়েরস্কের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশে এযাবৎকালের বৃহত্তম ইউরোপীয় একক ইক্যুইটি বিনিয়োগ।
মোট ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমির ওপর নির্মিতব্য টার্মিনালটির মূল অংশ থাকবে ৩২ একর জমিতে। এ ছাড়া কনটেইনার ইয়ার্ডের জন্য ৭ দশমিক ১৫ একর এবং ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধার জন্য ১০ একর জমি ব্যবহার করা হবে।
প্রকল্পে এপিএম টার্মিনালসের স্থানীয় অংশীদার হিসেবে থাকছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড। আধুনিক এ টার্মিনালে থাকবে সাতটি শিপ টু শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অংশীদার হিসেবে থাকছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এককালীন ২৫ মিলিয়ন ডলার দেবে এপিএম টার্মিনালস। এর পাশাপাশি প্রতিবছর আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি এবং প্রতিটি কনটেইনারের বিপরীতে ২৩ ডলার করে পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ও উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে এপিএম টার্মিনালস।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০৩০ সালে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে লালদিয়া টার্মিনালের।