‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান সালমান শাহ। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে অল্প সময়েই ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। তবে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার সেই সময়েও নানা বিরোধ ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই প্রয়াত অভিনেতা।
আরও পড়ুন
সালমান শাহ করেছিলেন ৬০ শতাংশ শুটিং, সিনেমাটি শেষ করেন ওমর সানি
এমনকি ক্যারিয়ারের শেষদিকে দুই সপ্তাহের জন্য এফডিসিতে নিষিদ্ধও ছিলেন তিনি।
১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে সালমান শাহকে দুই সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করে প্রযোজক সমিতি। ওই সময় নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন কোনো সিনেমায় কাজ করতে পারছিলেন না তিনি।
সালমান শাহর ওপর নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল কারণ ছিল প্রযোজক সমিতির সঙ্গে তার বিরোধ। ১৯৯৬ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত ‘ভোরের কাগজ’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আগে জানলে টাকা দিয়ে পুরস্কার কিনতাম’- এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রযোজক সমিতি তাকে দুই সপ্তাহের জন্য এফডিসিতে নিষিদ্ধ করেছিল।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না করেই প্রযোজক সমিতি বিভিন্ন প্রোডাকশন অফিসকে তার সঙ্গে কোনো সিনেমায় কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন সালমান শাহ। সেখানে তিনি বলেন, কেন নতুন সিনেমায় তাকে কাস্ট করা যাবে না তার কারণ জানানো হয়নি।
সালমান জানান, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় আনন্দ মেলা সিনেমা লিমিটেডের সঙ্গে আরও তিনটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শিডিউল নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। আনন্দ মেলার অভিযোগের পর প্রযোজক সমিতিসহ আরও কয়েকটি সংগঠন তাকে বর্জন করে।
শুধু প্রযোজক সমিতিই নয়, ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে শিল্পী সমিতিও একসময় সালমান শাহকে বর্জন করেছিল। পরে তিনি শিল্পী সমিতির কাছে ক্ষমা চান এবং আনন্দ মেলার সঙ্গেও বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন
হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকলে আমাকে কাজে লাগাতেন: অ্যাডলফ খান
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই নায়ক আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়ে আছেন।
এলআইএ