‘বিষ’ মেশানো খাবার খাইয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার অগ্রগতি থাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। এসময় তারা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামের বিচারের দাবি করেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় দোকানপাট বন্ধ রেখে স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার, সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চু, নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন, চাচাতো চাই জাকির হোসেন, ছেলে রাহাতুল ইসলাম বাপ্পী, রায়হান ইসলাম নিহান।
মামলা ও পরিবার সূত্র জানায়, নিহত মনির রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের ছেরাজুল হক বেপারী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুন প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম ইসলামকে (১৮) চিকিৎসার জন্য অন্তঃসত্তা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (৩৬) সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে যান। ডাক্তারের সিরিয়াল না পেয়ে রাতে মগবাজার সুইটস লিভ নামে একটি হোটেলে তারা রাত্রী যাপন করেন। সেখানেই খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরদিন আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকালে স্বপ্না, এর কিছুক্ষণ পর নাঈম ও দুপুরের দিকে মনির মৃত্যুবরণ করেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয় বলে তখন প্রাথমিকভাবে ধারণা করে চিকিৎসকরা। পরে ১ জুলাই নিহত মনিরের ভাই প্রবাসী নুরুল আমিন বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এ মামলায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়। রফিক নিহত মনিরের অর্থ-সম্পদ জব্দ করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন বলেন, রফিক আমার ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি আমার ভাইয়ের অর্থ সম্পদ সব আত্মসাৎ করেছে। মামলায় গ্রেফতার পর জামিনে বের হয়ে এখন হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) কামরুজ্জামান শিকদার নিহত মনিরের গ্রামের বাড়ি রামগঞ্জের দেহলা গ্রামে পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, মনির ও তার স্ত্রী-ছেলেকে হত্যার ঘটনায় রফিক নামে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তদন্তের স্বার্থে আমরা তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তদন্তের জন্য মনিরের গ্রামের বাড়িতে এসেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরাও চাই মনির ও তার স্ত্রী-সন্তান নিহতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি হোক।
কাজল কায়েস/কেএইচকে/এএসএম