সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন উত্থাপনের সময় ওয়াকআউটের ঘটনাকে ‘সুস্থ ধারার রাজনীতি’ বলা যায় কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যতই ক্ষমতাশালী হোক, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ছয় মাসে দেশে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গুমের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গুমসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোলেও তা অনেক দূর এগিয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থেই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার এমন কোনো বিচার করতে চায় না, যা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে বলে প্রশ্ন ওঠে বা ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। লোক দেখানো বা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, গত ছয় মাসে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গুমের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সরকার আইনি সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চায় না ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের শিকার হোক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ছাড়া গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।