কৈলাস-মানস সরোবরের পথে পাহাড়ি রাস্তা। হঠাৎ দূরে দেখা গেল পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে পানির স্রোত। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চালকের চিৎকার—‘হড়পা বান আসছে।’
মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ভেতর। কী ঘটতে যাচ্ছে, তা বুঝে ওঠার আগেই চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে নেন। তার দ্রুত সিদ্ধান্তেই ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা পান পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের শিক্ষক অনুকূল পোদ্দার ও তার স্ত্রী রেবা পোদ্দারসহ ৫২ জন পর্যটক।
আরও পড়ুন
এক শাড়িতে যেভাবে প্রাণে বাঁচলেন ২১ জন
গত ২৬ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডু থেকে পাহাড়ি রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় হড়পা বানের কবলে পড়েছিল তাদের গাড়ি। তবে চালকের বুদ্ধিমত্তায় শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ফিরে আসেন তারা।
বসিরহাটের বাড়িতে ফিরে সেই চালককে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনুকূল পোদ্দার।
৫২ জনের দল, সঙ্গে ছিলেন পোদ্দার দম্পতি
একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মোট ৫২ জনের একটি দল নেপাল হয়ে চীনের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিল। দলের ২২ জন ছিলেন বাঙালি। অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন দক্ষিণ ভারতের ৩০ জন পর্যটক।
আরও পড়ুন
টিকটক ভিডিওতে মিলল নিখোঁজ মায়ের শেষ অবস্থান
যাত্রাপথে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তারা। তবে চালকের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে সবাই নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন।
পরে দলের ৫২ জনই সুস্থ ও নিরাপদে নিজ দেশে ফেরেন।
তিন ঘণ্টা পর থেমে যায় গাড়ি
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অনুকূল পোদ্দার জানান, ২৬ আগস্ট সকালে তারা কাঠমান্ডু থেকে রসুওয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকেই নেপাল-চীন সীমান্তের দিকে যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরের দিন ইমিগ্রেশন সেন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার কথা ছিল। এরপর অনুমতি নিয়ে চীনের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার কথা ছিল তাদের।
আরও পড়ুন
নেপালের বন্যায় নিহত ৭৩৪, নিখোঁজের তালিকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮৫ সদস্য
কিন্তু কাঠমান্ডু থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা যাওয়ার পর আচমকাই থেমে যায় তাদের গাড়ি। অনুকূল পোদ্দার বলেন, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, হয়তো কেউ শৌচাগারে যাওয়ার জন্য গাড়ি থামাতে বলেছেন। কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি বদলে যায়।
‘হড়পা বান আসছে’, চালকের চিৎকার
অনুকূল পোদ্দারের ভাষায়, হঠাৎ চালক চিৎকার করে জানাতে থাকেন, ‘হড়পা বান আসছে, গাড়ি যাবে না।’
তখনো বিপদের ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি তারা। কিছুক্ষণ পরেই দূরে পাহাড়ের গা বেয়ে মেঘের স্রোতের মতো কিছু একটা নেমে আসতে দেখেন।
পোদ্দার বলেন, হড়পা বান কেমন হয়, সেটি চোখের সামনে দেখবেন—এমন কৌতূহলও তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে।
কিন্তু চালক পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছিলেন। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি গাড়িটি ঘুরিয়ে নেন।
এরপর দ্রুত সবাইকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
অনুকূল পোদ্দার বলেন, চালক তাদের আবার হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি যদি সময়মতো গাড়ি না ঘোরাতেন, তাহলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত।
দেশে ফিরে চালককে ধন্যবাদ
নেপালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে অবশেষে ভারতে ফিরেছেন অনুকূল পোদ্দার ও তার স্ত্রী। বসিরহাটের বাড়িতে ফিরে চালকের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেন অনুকূল পোদ্দার। তার মতে, চালকের দ্রুত সিদ্ধান্তই তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছে।
ডিডি/কেএএ/