অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্মের বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। দর্শক ও ক্রিয়েটরদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে এবার আয়ের নতুন পথ তৈরি করছে ইউটিউব। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ক্রিয়েটরদের কনটেন্ট থেকেই সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। এর ফলে শুধু ভিডিও থেকে নয়, পণ্য বিক্রির কমিশন থেকেও আয় করতে পারবেন যোগ্য ক্রিয়েটররা।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য ইউটিউব ক্রিয়েটররা তাদের ভিডিও, শর্টস ও লাইভ স্ট্রিমে অ্যামাজনের পণ্য ট্যাগ করতে পারবেন। দর্শক সেই পণ্যে আগ্রহী হয়ে কিনলে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়েটর কমিশন পাবেন। ফলে ক্রিয়েটরদের জন্য ইউটিউব হয়ে উঠতে পারে আরও বড় আয়ের প্ল্যাটফর্ম।
ইউটিউবেই মিলবে অ্যামাজনের পণ্য
ইউটিউবের শপিং অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আগে থেকেই রয়েছে। এর মাধ্যমে যোগ্য ক্রিয়েটররা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য কনটেন্টে যুক্ত করে কমিশন আয় করতে পারেন। এবার সেই ব্যবস্থায় অ্যামাজনের পণ্য যুক্ত হওয়ায় ক্রিয়েটরদের সামনে আরও বড় পণ্যের সম্ভার খুলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
গোপাল ভাঁড় দেখতে দেখতে ভাত খাওয়ার ট্রেন্ড কীভাবে এলো?
অ্যামাজন ইউটিউবের জন্য নির্বাচিত পণ্যের একটি তালিকা সরবরাহ করবে। সেখানে বেশি চাহিদা থাকা ও ট্রেন্ডিং পণ্যগুলো রাখা হবে। কোনো ক্রিয়েটর নির্দিষ্ট কোনো অ্যামাজন পণ্য প্রচার করতে চাইলে সেটি তালিকায় না থাকলে ইউটিউব সাপোর্টের মাধ্যমে পণ্যটি যুক্ত করার অনুরোধও করতে পারবেন। ফলে কোনো গ্যাজেটের রিভিউ, পোশাকের ভিডিও, রান্নার কনটেন্ট কিংবা লাইভ শপিং বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক পণ্য যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
ভিডিও থেকেই পণ্য শনাক্ত করবে ইউটিউব
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো স্বয়ংক্রিয় পণ্য ট্যাগিং। এই সুবিধা চালু থাকলে ইউটিউবের সিস্টেম ক্রিয়েটরের সাম্প্রতিক আপলোড করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে সেখানে থাকা নির্বাচিত অ্যামাজন পণ্য শনাক্ত করতে পারবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাগ করা হতে পারে। অর্থাৎ প্রতিটি ভিডিওতে আলাদাভাবে পণ্য খুঁজে ট্যাগ করার ঝামেলা কমবে। এতে ক্রিয়েটরদের সময় বাঁচার পাশাপাশি পণ্যভিত্তিক কনটেন্ট থেকে আয় করার সুযোগও সহজ হবে।
কীভাবে আয় করবেন ক্রিয়েটররা?
অ্যামাজনের কোনো ট্যাগ করা পণ্য দর্শক কিনলে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়েটর কমিশন পাবেন। ইউটিউব স্টুডিওর মাধ্যমে ক্রিয়েটররা প্রতিদিনের মোট আয়ের হিসাব দেখতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট কোন ভিডিও থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, সেই তথ্য আলাদাভাবে দেখানো হবে না। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কোনো দর্শক ট্যাগ করা পণ্য কেনার পর সেটি ফেরত দিলে সেই বিক্রির কমিশন ক্রিয়েটরের আয় থেকে কেটে নেওয়া হবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
এই নতুন ফিচার ব্যবহারের জন্য ক্রিয়েটরকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম এবং ইউটিউব শপিং অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম দুই ক্ষেত্রেই নিবন্ধিত থাকতে হবে। পাশাপাশি সক্রিয় অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার অথবা অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েট অ্যাকাউন্টও প্রয়োজন হবে।বর্তমানে অ্যামাজনের সঙ্গে এই ইন্টিগ্রেশন যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য ক্রিয়েটরদের জন্য সীমাবদ্ধ। তবে তাদের ভিডিওতে ট্যাগ করা পণ্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের দর্শকরাও দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন
কপাল পুড়লো ইউটিউবারদের, টাকা আয় আরও কঠিন হচ্ছে
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
ভিডিও প্ল্যাটফর্মের বাজারে দর্শক ও ক্রিয়েটর ধরে রাখা এখন বড় প্রতিযোগিতার বিষয়। শুধু বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে ক্রিয়েটরদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারলে প্ল্যাটফর্মে তাদের সক্রিয়তা বাড়তে পারে। অন্যদিকে অ্যামাজনও ইউটিউবের বিশাল ক্রিয়েটর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য আরও বেশি সম্ভাব্য ক্রেতার সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে এই অংশীদারত্বে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দুই পক্ষেরই।
ইউটিউবের এই উদ্যোগ শুধু নতুন একটি শপিং ফিচার নয়; ক্রিয়েটর অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার কৌশলও হতে পারে। নতুন প্রতিযোগীদের ভিড়ে দর্শক ও নির্মাতাদের ধরে রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়ের পথ খুলে দিতে পারে ইউটিউব।
কেএসকে