জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রত্ব নেই। তিনি বিবাহিত এবং জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগও। এতো কিছুর পরও শীর্ষ পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়ায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শাখা ছাত্রদলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৩৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ।
সম্প্রতি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২২ আগস্ট রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরই মাসুদের বর্তমান শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে জাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। জামালপুর শহরের উইজডম সেন্ট্রাল কলেজে উচ্চতর গণিত বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে তাকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল ও কর্মসূচিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সঙ্গে তার কয়েকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আদিবা হক মিলা বলেন, একজন অছাত্রের পাশাপাশি তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি এমন একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন, যে প্রতিষ্ঠানের মালিক জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী। এমন একজন ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হলে আমাদের সত্যিই কষ্ট লাগে।
অভিযোগের বিষয়ে এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, আমি একটি কলেজে চাকরি করি। ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। আর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার যেসব ছবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর কিছু এআই দিয়ে তৈরি। আমি আগামী মাসে মাস্টার্সে ভর্তি হবো। এছাড়া আমাদের সংগঠনে বিবাহিত বা অবিবাহিত এ ধরনের বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। আমি বিবাহিত।
এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহান বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও শুনেছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হৃদয় আহম্মেদ/কেএইচকে/এএসএম