বগুড়ার শেরপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বাগড়া এলাকার প্রধান সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যান চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হতে না হতেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। শুধু তাই নয়, ঢালাইয়ের নিচের বালি সরে গিয়ে তৈরি হওয়া ফাঁকা স্থান ধামাচাপা দিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাঁচা ইট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন জালিয়াতিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।
সরজমিনে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে বাগড়া এলাকায় গিয়ে সড়কটির অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা চোখে পড়ে।
সদ্য শেষ হওয়া আরসিসি ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে হাঁটতেই নজরে আসে একাধিক দীর্ঘ ফাটল। আরও কাছে গিয়ে দেখা যায়, ঢালাইয়ের নিচের বালি সরে গিয়ে ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাঁকা । কারিগরি মান না মেনে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই করার কারণেই ঢালাইয়ের তলা থেকে বালি ধসে পড়েছে। সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, সড়কটির স্থায়ী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কাজ বন্ধ রেখে সংস্কারের ব্যবস্থা না নিয়ে, ঠিকাদারের লোকজনকে দেখা যায় সেই ফাঁকা অংশগুলোতে হাত দিয়ে ইট গুঁজে গুঁজে দিতে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওপর থেকে দেখতে যেন সব স্বাভাবিক মনে হয়, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এই অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। নির্মাণকাজের এমন হরিলুট দেখে ফুঁসে উঠেছেন বাগড়া ও আশপাশের এলাকার অধিবাসীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাগড়ার এই রাস্তা দিয়ে দিন-রাত , ট্রাক, অটো, সিএনজিসহ হাজার হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা রাস্তায় এমন ভুয়া কাজ কীভাবে হয়? কয়দিন যেতে না যেতেই যদি ঢালাই ফাটল দেখা যায় আর ভেতরে ইট গুঁজে দেওয়া হয়, তবে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না।
আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শুরু থেকেই নিম্নমানের রড, সিমেন্ট আর বালি ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদারের লোকেরা কারও কথায় কান দেয়নি। এখন রাস্তা বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই এমন ফাঁটল হয়ে পড়ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা এভাবে জলে ফেলে দেওয়া এবং পকেটে ভরা বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বগুড়ার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান দুর্নীতির কথা পুরোপুরি উড়িয়ে না দিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন বাগড়া এলাকার ওই সড়কের অনিয়ম ও কাজের ফাঁটল সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। দ্রুতই আমাদের একটি প্রতিনিধি দল সরজমিনে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের একটাই দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই মেগা অনিয়মের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকি কর্মকর্তা উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই এক কিলোমিটারের সড়কটি খুব দ্রুতই বড় কোনো দুর্ঘটনাকবলিত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হবে।