রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ না থাকায় রাতে লোডশেডিং করতে হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার।
শনিবার (২৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দেশটির বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আরএলএনজি-এর বিলম্বিত কার্গোগুলো দেশে পৌঁছালেই লোডশেডিং কমিয়ে দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র জানান, একটি আরএলএনজি কার্গো সময়মতো না পৌঁছানোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। এর সঙ্গে মাংলা বাঁধ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৯৫ মেগাওয়াট কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে শুক্রবার রাতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিভিন্ন এলাকায় দেড় থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ওই সময় ফার্নেস অয়েলচালিত কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আরএলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক লোডশেডিং কমিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকার সময়ে গ্রাহকদের প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দিনের বেলায় কোনো লোডশেডিং করা হচ্ছে না। তবে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ক্ষতির কারণে লোডশেডিং করা হয়, সেখানে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর আগে গত এপ্রিলেও প্রতিশ্রুত সময়ের চেয়ে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিল সরকার।
হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের প্রভাব
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে কাতার থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আরএলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পাকিস্তানে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জুলাইয়ে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে পাঁচটি আরএলএনজি কার্গো কিনতে হয়। এর ফলে আরএলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও ব্যাপক বেড়ে যায়।
সূত্র: ডন
এমএসএম