দুই দশক পার হলেও স্থায়ী কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি ভোলার দৌলতখান পৌরসভায়। উপজেলা ব্রিজের পাশে ও বেতুয়া নদীর খালে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে পুরো শহরের বর্জ্য। এতে বিষিয়ে উঠেছে বাসিন্দাদের জনজীবন। দৌলতখান পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের দিকে ভোলার দৌলতখান পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে এটি ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। তবে পৌরসভা এলাকার ময়লা ও বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। আগে অন্য স্থানে পৌরসভার এলাকার ময়লা ও বর্জ্য ফেলা হলেও প্রায় ২০ বছর ধরে উপজেলার সেতু সংলগ্ন এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
ডাল-ভর্তায় মাস পার, আমিষে ভরসা ব্রয়লারের এক টুকরো মাংস
সরেজমিন দেখা গেছে, দৌলতখান বাজারের পাশেই বেতুয়া খালের ওপর নির্মিত উপজেলা ব্রিজের পাশে পৌরসভার বর্জ্য ও ময়লার স্তূপ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ৭ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসী। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। ময়লার স্তূপে খাবারের সন্ধানে কুকুরের বিচরণ থাকায় ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠিয়েও চিন্তিত থাকেন অভিভাবকরা।
দীর্ঘদিন ধরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কের পাশেই পৌরসভার ময়লা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। গন্ধে আমরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারি না। আমরা এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ চাই’
এসব বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে বেতুয়া খালে। এতে খালের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি নষ্ট হওয়ায় খালে মাছ শিকার করতে না পেরে অনেকে হারিয়েছেন আয় রোজগার।
দৌলতখান পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির ও তানভির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কের পাশেই পৌরসভার ময়লা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। গন্ধে আমরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারি না। আমরা এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ চাই।’
আরও পড়ুন
দুই মাসেই এডিসের ঘনত্ব দ্বিগুণ, ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী
তারা আরও বলেন, ‘এই সড়ক (উপজেলা ব্রিজ সড়ক) দিয়েই আমাদের যাতায়াত সহজ হয়। কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে বাধ্য হয়ে অন্য পথ দিয়ে যেতে হয়। এতে বিকল্পে পথে পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগে ১০-১৫ মিনিট।’
‘দৌলতখান বাজারের পাশেই বেতুয়া খালের ওপর নির্মিত উপজেলা ব্রিজের পাশে পৌরসভার বর্জ্য ও ময়লার স্তূপ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ৭ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসী। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। ময়লার স্তূপে খাবারের সন্ধানে কুকুরের বিচরণ থাকায় ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠিয়েও চিন্তিত থাকেন অভিভাবকরা’
আরেক বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, ‘ময়লার দুর্গন্ধের কারণে আমরা নাক চেপে চলাচল করি। দম বন্ধ হয়ে আসে। অথচ এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।’
একইভাবে দুর্ভোগের কথা জানান স্থানীয় আশাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছোট ছোট সন্তানরা এই পথ দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। ময়লা ও বর্জ্যের স্তূপে অনেক কুকুর থাকে। আমরা আতংকে থাকি কখন জানি কুকুর সন্তানদের ওপর আক্রমণ করে! এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর কুকুর আক্রমণ করেছে। তাই সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা চিন্তিত থাকি।’
আরও পড়ুন
দখলদারদের পেটে কান্দিখাল, বৃষ্টিতে ভাসে কুমিল্লা নগরী
দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আহমেদ আলী তালুকদার ও পৌর শহরের বাসিন্দা সিয়াজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে তাদের উপজেলা পরিষদে যেতে হয়। যাওয়ার সময় উপজেলা ব্রিজের ওপর উঠলেই ময়লা ও বর্জ্যের দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়। নাক চেপে চলাচল করতে দম বন্ধ হয়ে আসে। খুব কষ্ট হয়। কিন্তু তারপরও চলাচল করতে হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয় না।
‘আগে খালে বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু বর্তমানে খালের পানি দূষিত। এই পানিতে মাছ পাওয়া যায় না। এতে আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। মাছ ধরতে না পারলে আমরা খাব কী?’
এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আবদুল মতিন খান বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। তবে আমার কাছে স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। এ কারণে প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে ময়লা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।’
আরও পড়ুন
মাছের সংকট কাটছে, প্রাণ ফিরছে উপকূলের জেলেদের
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। ময়লা ও বর্জ্য ফেলার জন্য শহর থেকে দূরে স্থান নির্ধারণ করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগির বিষয়টির সমাধান করা হবে।’
এসআর/এএসএম