ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্ট এ আশঙ্কার কথা জানান।
কেন্ট বলেন, প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও যদি ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে চায়, তাহলে সামনে দুটি পথ থাকতে পারে- ইরানে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান অথবা পরমাণু হামলা।
তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শেষ পর্যন্ত গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
কেন্ট আরও বলেন, তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্বত্য এলাকায় ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে পরমাণু হামলার পথও বিবেচনা করতে পারে।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান হঠাৎ স্থগিত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নির্ভুল অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তারা অস্ত্রের ঘাটতির খবর অস্বীকার করে আসছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প এ উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।
তবে জো কেন্টের পরমাণু হামলার আশঙ্কা তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য; এটি যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত বা এমন কোনো পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।