ফরিদপুরে স্ত্রী হাসিনা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় দেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসিনা বেগমের স্বামী ফরহাদ মোল্লা যৌতুকের জন্য তার স্ত্রীকে প্রায়ই চাপ দিতেন। একপর্যায়ে তিনি হাসিনার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা নগদ যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গত ২০২৩ সালের ৩১ মে রাত থেকে ১ জুন সকালের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার স্ত্রীকে তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে নিহতের বাবা মছলেম খলিফা মেয়ের স্বামীর বাড়িতে গিয়ে নগরকান্দা উপজেলার বাস্তপট্টি গ্রামের বাড়ির তার স্বামীর ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় হাসিনার মরদেহ দেখতে পান। পরে ওই দিনই তিনি বাদী হয়ে প্রধান আসামি ফরহাদ মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।পরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত ফরহাদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া রতন বলেন, আদালতের ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে আমরা আশা করি।
এন কে বি নয়ন/কেএইচকে/জেআইএম