সৌদি আরবে ফাস্টফুডের দোকানে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একজনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ছয় লাখ টাকা। তবে নির্ধারিত চাকরি না দিয়ে আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট মো. সালমান হোসেন (৩৩) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
আরও পড়ুন
পরিবারে ফেরার আকুতি / ৩২ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন পাকিস্তানে পাচার হওয়া আছিয়া
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক ভুক্তভোগীকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় মানবপাচারকারী চক্রটি। প্রস্তাবে রাজি হলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেয় তারা। পরে ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
তবে সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বরং সালমান হোসেন চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে একটি বাসায় আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।
একপর্যায়ে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে মরুভূমি এলাকায় চলে যান ভুক্তভোগী। সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন। পরে সৌদি পুলিশের হাতে তিনি আটক হন। এরপর গত ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি সাভার থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন।
আরও পড়ুন
লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু / ‘আমার ছেলেও গেল, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম’
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আরও জানান, মামলাটি বর্তমানে তাদের মানবপাচার শাখা তদন্ত করছে। গ্রেফতার ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য, পলাতক আসামি, চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।
টিটি/ইএ