গতানুগতিক সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় সহজে বাঁধা যায় না অভিনেত্রী নাজিফা তুষিকে। তার হাসিতে যেমন রয়েছে এক ধরনের রহস্যময় আকর্ষণ, তেমনি ফ্যাশনেও নিজের স্বতন্ত্র রুচির ছাপ রাখেন তিনি। পর্দায় কখনো ‘হাওয়া’র গুলতি, কখনো ‘রইদ’-এর সাধুর বৌ-ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে বদলে নেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও লুক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায় তাকে।
বিশেষ করে কালো রঙের পোশাকে তুষির উপস্থিতি যেন আলাদা মাত্রা পায়। এবার শাড়ির সাজে তার দুটি ভিন্নধর্মী লুক সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।
তুষির লুকে দেখা গেছে টিল বা ময়ূরকণ্ঠী রঙের শাড়ি। শাড়ির জমিনজুড়ে একই রঙের সুতায় করা হয়েছে সূক্ষ্ম ফুলেল কারুকাজ। বর্ডারেও রয়েছে একই ধরনের নকশা, যা পুরো শাড়িতে এনেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া।
শাড়ির সঙ্গে একই রঙের স্লিভলেস ব্লাউজ বেছে নিয়েছেন তুষি। তবে সাধারণ কাটের বদলে ব্লাউজের নকশায় ছিল আধুনিকতার স্পষ্ট ছাপ। স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ, সামনে সুইটহার্ট নেকলাইন এবং পেছনে ক্রিসক্রস স্ট্র্যাপের নকশা তৈরি করেছে আকর্ষণীয় সিলুয়েট। ব্যাকলেস কাটের এই ব্লাউজ ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সাজে যোগ করেছে সমসাময়িক গ্ল্যামারের আবহ।
এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তুষির চোখের মেকআপ। চোখজুড়ে ছিল ডার্ক স্মোকি আই, তার সঙ্গে টিল আইশ্যাডোর মিশেল। শেডগুলো নিখুঁতভাবে ব্লেন্ড করে চোখকে দেওয়া হয়েছে আরও গভীর ও আকর্ষণীয় অভিব্যক্তি। মুখে ছিল সেমি-ম্যাট বেস ও শার্প কনট্যুরিং। গালে ব্লাশ ও হাইলাইটারের পরিমিত ব্যবহার মুখের গড়নকে আরও স্পষ্ট করেছে।
চোখের বোল্ড মেকআপের ভারসাম্য রাখতে ঠোঁটে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্লসি নিউড শেড। ফলে পুরো মেকওভার হয়েছে গ্ল্যামারাস, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী নয়। পুরো সাজটি করা হয়েছে ‘সিগনেচার লুক বাই সামিয়া’-র আয়োজনে।
হাফ-আপ স্টাইলে সাজানো চুলে সাদা ফুলের সংযোজন তুষির এই সাজে এনেছে উৎসবের আমেজ। ময়ূরকণ্ঠী শাড়ির সঙ্গে সাদা ফুলের বৈপরীত্যও বেশ আকর্ষণীয়। কানে থাকা সোনালি ঝুমকা ঐতিহ্যবাহী সাজের আবহকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
নাজিফা তুষির সাম্প্রতিক সাজগুলো দেখিয়ে দেয়, শাড়ি মানেই কেবল সাবেকি সাজ নয়। স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে শাড়িকেও দেওয়া যায় আধুনিক গ্ল্যামারের নতুন ভাষা। আর সেই ভাষাতেই নিজের স্বতন্ত্র ফ্যাশন পরিচয় তৈরি করছেন নাজিফা তুষি।
এসএকেওয়াই