যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করে চালককে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি কেনার দায়ে এক গ্যারেজ মালিককে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসান। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন চালক জুয়েল। পরে আলী হোসেন ও লুৎফর রহমান যাত্রী সেজে অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। তারা চালককে ভাষানচর গ্রামের কাঠবাগান এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা হাসান ও এক কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
এরপর জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে তাকে ধইঞ্চাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন আসামিরা। পরে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি অটোরিকশাটিও নিয়ে পালিয়ে যান তারা।
জুয়েল রাতে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ধইঞ্চাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জুয়েলের বোন সাবিনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। পরে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে জানা যায়, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি চোরাই মাল জেনেও বেশি লাভের আশায় মাত্র ২২ হাজার টাকায় কিনে নেন গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমান।
আরও পড়ুন
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী কেয়া রিমান্ডে
তদন্ত শেষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ আলম চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের। এছাড়া ছিনতাইয়ের দায়ে দেওয়া পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের ১৫ লাখ টাকা নিহত জুয়েলের অসহায় পরিবার ও এতিম সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব।
এমডিএএ/একিউএফ