নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ ঢলে শত শত মানুষের মৃত্যুর কয়েকদিন না যেতেই দেশটিতে আবারও বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিমবাহের চারপাশে জমে থাকা পানি ক্রমেই উপচে পড়ায় নতুন করে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
নেপালে বন্যা / সব ভেসে গেলেও সবুজ বাড়িটি টিকে যাওয়ার রহস্য কী?
চীনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে পাহাড়ের ঢালে একটি গর্ত বা ধসের এলাকা তৈরি হয়েছে। ওই ধস থেকেই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল। এর প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নিচে ছোট ছোট কয়েকটি জলাধারে পানি জমেছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব জলাধারের সব কয়টিতেই এখন পানি উপচে পড়ছে। এর অর্থ, পাহাড়ের ওপরে থাকা বরফ গলছে।
এর কারণে ওই এলাকার আশপাশের হিমবাহগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন করে পানি ও বরফের প্রবাহ তৈরি হলে নিচের জনপদগুলোতে আবারও ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
নেপালে বন্যার পর সুড়ঙ্গে ৯ শতাধিক শ্রমিক আটকা পড়ার শঙ্কা
গত সপ্তাহের আকস্মিক বন্যার পর কাছের আরেকটি নদীও বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। ওই নদীতে পানির প্রবাহ আটকে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে।
নদীর দুই তীরে বিভিন্ন আকারের একাধিক ভূমিধসের বাধা তৈরি হয়েছে। এসব বাধার ওপর দিয়েও পানি উপচে পড়ছে বলে জানিয়েছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
তারা বলেছে, এসব ভূমিধসের বাধা ভেঙে গেলে নতুন করে ভূমিধসের কারণে আটকে থাকা হ্রদ তৈরি হতে পারে। এতে আবারও বড় ধরনের পানির প্রবাহ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন
বন্যায় ভেসে যায় ব্যাংকের লকার, এরপরই শুরু লুটপাট
এদিকে, নেপাল ও চীনে এখনো উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চলছে। তবে, ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে, নতুন করে পানি জমায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে তৈরি হওয়া কয়েকটি জলাধারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানও বারবার স্থগিত করতে হয়েছে।
সূত্র: সিএনএনএমআরএইচ/কেএএ/