টালিউডের অন্দরের নানা অভিযোগ নিয়ে ফের সরব হলেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা এবং ‘মি টু’ আন্দোলন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ-সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
কেন এতদিন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি ঋতাভরী-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। নতুন একজন অভিনেত্রী হিসেবে তখন অনেক ভয় কাজ করত। অভিযোগ করলে মানুষ তাকেই ভুল বুঝতে পারে-এমন আশঙ্কাও ছিল।
ঋতাভরীর ভাষায়, ‘আজ আমার জীবনে এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে যে, কেউ যদি এখন আমার গায়ে হাত দেয় বা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে, তবে তাদের মাঝরাস্তায় উলঙ্গ করে দাঁড় করাব। আর জানিয়ে রাখি, পূর্ব ভারতের একজন অভিনেত্রী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অনুসারীও আমার।’
অভিনেত্রী জানান, একসময় তার মনে হতো, কোনো নির্মাতা বা প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে মানুষ হয়তো ভাববে কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি এসব বলছেন। সেই ভয়েই অনেক কিছু চুপ করে সহ্য করতে হয়েছে।
তবে সেই সময়ের বিভিন্ন আপত্তিকর বার্তা ও প্রমাণ এখনো নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ঋতাভরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিচার করার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে চান না তিনি। বরং প্রয়োজন হলে আইনি ও সুশৃঙ্খল পথে বিষয়গুলোর মোকাবিলা করতে চান।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টালিউডে নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন ঋতাভরী। কেরালার চলচ্চিত্রশিল্পে যৌন হেনস্তা ও বৈষম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত ‘হেমা কমিটি’র আদলে বাংলার চলচ্চিত্রশিল্পেও উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন
শুটিংয়ে ফেরার ঘোষণা দিলেন রাশমিকা
এ নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে সরাসরি বৈঠকও করেছিলেন অভিনেত্রী। তার দাবি, ওই বৈঠকে বিচারপতি, পুলিশ, আইনজীবী ও মনস্তত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। টালিউডে নারীদের নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
ঋতাভরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের কাছেও এ বিষয়ে আরও আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন জমা দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, সঠিক বিচার ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামাবেন না।
২০০৯ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পরিচিতি পান ঋতাভরী। এরপর একাধিক বাংলা সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি। ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’, ‘ফাটাফাটি’ ও ‘বহুরূপী’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিতেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন
১০০ কোটির পরই ধস, চার দিনে কত আয় করল ‘টক্সিক’?
তবে অভিনয়ের পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার অবস্থানও তাকে বারবার আলোচনায় এনেছে। এবার টালিউডে যৌন হেনস্তা ও নারীদের নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমএমএফ