নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বা এক গ্রেড এক পেনশন ব্যবস্থা চালু করে তা ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদনের পর পেনশনভোগীদের জন্য এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মাসে ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন পান, তাদের নিট পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। অর্থাৎ ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তির পেনশন বেড়ে ১৮ হাজার টাকা হবে।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৬৫ শতাংশ। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৬০ শতাংশ। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া যেসব পেনশনভোগী তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, নতুন সিদ্ধান্তে তাদের পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে। এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। তবে এক সঙ্গে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষের প্রয়োজন হওয়ায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় এ মুহূর্তে পুরোপুরি ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে পেনশন বৃদ্ধি
নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও এক সঙ্গে সব সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ এর মধ্যে মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধির সুবিধা কার্যকর হবে।
উপকৃত হবেন সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারীর পাশাপাশি সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। পুরো বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে শুধু কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরাই নয়, অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া পুরোনো পেনশনভোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে পেনশন বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি সমন্বিত পেনশন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
এমএএস/একিউএফ