বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষায় নকল বা কোনো ধরনের অসদুপায় বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাউবির তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য এ কথা জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নকল বা পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
আরও পড়ুন
৫০০ টাকার বিনিময়ে বই দেখে পরীক্ষা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা
উপাচার্য পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও কক্ষ পরিদর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান।
এর আগে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে বাউবির বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় বই দেখে লেখার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রথমে চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হলেও পরে বহিষ্কারের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন
ডিগ্রি পরীক্ষায় বই দেখে লেখায় বহিষ্কার বেড়ে ৭, তদন্তে কমিটি
ঘটনার পর কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রটি বাতিল করে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজকে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে দুই কক্ষ পরিদর্শককে বাউবির পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বাউবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বাউবি উপাচার্য। আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেন তিনি।
এএএইচ/ইএ