সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিভিশন জীবনে শুরু হলো নতুন অধ্যায়। জনপ্রিয় কুইজভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘দাদাগিরি’-র দীর্ঘ সাফল্যের পর এবার তিনি হাজির হয়েছেন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস্ বাংলা’-র সঞ্চালক হিসেবে। অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব সম্প্রচারের পর দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটাই প্রশ্ন— নতুন ভূমিকায় কতটা স্বচ্ছন্দ ‘দাদা’?
একান্ত আলাপচারিতায় সৌরভ জানালেন, ‘বিগ বস্’-এর রাজকীয় সেট তাঁর দারুণ লেগেছে। তবে প্রতিযোগীদের মতো টানা তিন মাস সেই ঘরের মধ্যে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের ব্যস্ত জীবনযাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মজা করেই বলেন, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বন্দি থাকার অভ্যাস তাঁর নেই।
নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে পরিবারের প্রতিক্রিয়াও জানতে চাওয়া হয়েছিল। সৌরভ জানান, মেয়ে সানা তাঁর সঙ্গে প্রথম পর্ব দেখলেও আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পরিচিতজনদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই পেয়েছেন। অনেকেই তাঁর নতুন লুক ও মেকআপের প্রশংসা করেছেন। যদিও তাঁর মতে, খেলা এখনও সবে শুরু হয়েছে, তাই চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় আসেনি।
হিন্দি ‘বিগ বস্’-এর প্রসঙ্গে উঠে আসে সালমান খানের নাম। সৌরভ বলেন, সালমান নিজের মতো করে অনুষ্ঠানটি ভালোভাবেই পরিচালনা করেন। তবে তিনি নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে কারও সঙ্গে বিশেষ পরামর্শ করেননি। বিভিন্ন ভাষার ‘বিগ বস্’ দেখেছেন বটে, কিন্তু নিজের উপস্থাপনার ধরন গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ভাবনাতেই।
‘দাদাগিরি’ এবং ‘বিগ বস্’— দুই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মধ্যে তুলনা টানতেও নারাজ সাবেক ভারত অধিনায়ক। তাঁর মতে, দুই অনুষ্ঠানের ধরণ, মেজাজ ও উপস্থাপনার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে একটিকে অন্যটির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না।
দর্শকদের নজর কেড়েছে ‘বিগ বস্ বাংলা’-য় তাঁর নতুন সাজও। এ প্রসঙ্গে সৌরভ জানান, অনুষ্ঠানের চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা ঝলমলে লুক বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে পোশাক বা স্টাইলের বিষয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাঁর ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়নি। সব সিদ্ধান্তই তিনি নিজের পছন্দ ও ভাবনা থেকে নিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনের ‘বিগ বস্’ কে— এমন প্রশ্নে সৌরভের উত্তর ছিল একেবারেই পারিবারিক। তাঁর ভাষায়, মা-বাবা, স্ত্রী ডোনা ও মেয়ে সানাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। আর ‘বিগ বস্’ বলতে যদি পরিবারের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, তবে সেই জায়গায় রয়েছেন তাঁর বাবা।
এর আগে বাংলায় ‘বিগ বস্’-এর সঞ্চালক ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী ও জিৎ। তাঁদের সঙ্গে নিজের তুলনা টানতে চান না সৌরভ। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকেই নিজস্ব স্টাইলে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং তিনিও সেই পথেই হাঁটছেন।
প্রতিযোগীদের প্রসঙ্গে সৌরভ জানান, শুটিং ফ্লোরে গিয়েই তাঁদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচয় হয়েছে। অনেককে আগে থেকে চিনলেও কে কে অংশ নিচ্ছেন, তা আগে জানা ছিল না। বিজয়ী নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতেও এখনই রাজি নন তিনি। তাঁর মতে, খেলা আরও কিছুটা এগোলেই বোঝা যাবে কারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন।
‘বিগ বস্ বাংলা’-য় কোনো রাজনীতিবিদ না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বলে জানান তিনি। নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলেও স্পষ্ট করেন।
আলাপচারিতার সবচেয়ে মজার মুহূর্ত আসে যখন উঠে আসে গ্রেগ চ্যাপেলের প্রসঙ্গ। ভারতীয় ক্রিকেটে একসময় সৌরভ-চ্যাপেল দ্বন্দ্ব ছিল বহুল আলোচিত। সেই চ্যাপেল যদি ‘বিগ বস্’-এর ঘরে প্রতিযোগী হয়ে আসতেন, তাঁকে সামলাতে পারতেন কি না— এমন প্রশ্নে হাসতে হাসতেই সৌরভ বলেন, অবশ্যই পারতেন। তবে পরক্ষণেই যোগ করেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্রেগ চ্যাপেল আদৌ ‘বিগ বস্’-এ আসবেন না, তাই এমন কল্পনা করে বিশেষ লাভ নেই।
যখন তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে একসময় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস ‘বিগ বস্’-এ অংশ নিয়েছিলেন, তখনও রসিকতা ছাড়েননি সৌরভ। হেসে তাঁর জবাব, “অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস আর গ্রেগ চ্যাপেল এক নয়!”
নতুন দায়িত্ব, নতুন মঞ্চ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ— সব মিলিয়ে ‘বিগ বস্ বাংলা’-য় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। আর প্রথম পর্বের পর অন্তত এটুকু স্পষ্ট, ‘দাদা’ নিজের স্বভাবসুলভ আত্মবিশ্বাস ও রসবোধ নিয়েই এই নতুন ইনিংস শুরু করেছেন।
সূত্র: আনন্দবাজার