অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে আর কখনো খেলতে দেখা যাবে না বিশ্বসেরা এই ফুটবলারকে। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটাই হয়ে থাকলো তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে।
বিশ্বকাপের পরই মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা উঠেছিল। তিনি কী আগামী বিশ্বকাপ খেলবেন নাকি খেলবেন না, এ নিয়ে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। যদিও মেসি কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিদায় জানানোর। এর মধ্যে তার বাবা হোর্হে মেসি মৃত্যুবরণ করলেন। মেসি হয়ে গেলেন পুরোপুরি একা। বাবার মৃত্যু মেসিকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দৃঢ়তা জুগিয়েছে, সন্দেহ নেই।
অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিঠি দিয়ে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। যে চিঠির মাধ্যমে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন, সেই চিঠিতে যা লিখেছেন মেসি, তা হুবহু তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।
মেসি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালের পর এতটা সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে এখন আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি...।
এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে। তবে আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, আমি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। শুধু গত কয়েক বছরে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও আমি সবসময় এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি এবং নিজের সবটুকু দিয়েছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে আমি সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
সময় আর খুব বেশি বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। আর এটি এমন একটি অধ্যায়, যার সমাপ্তি আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলে থাকা আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময়ই ভালোবাসব। আমি আমার সবটুকু দিয়ে দিয়েছি; আমার আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। পাশাপাশি, আমার পেছনে দুর্দান্ত কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।
গত ২০ বছরে আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। জাতীয় দলের ভেতর থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করব। এখন থেকে আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে যাব- সুখে-দুঃখে, বরং আগের চেয়েও বেশি।
সবসময় পাশে থাকার জন্য আমার পরিবারকে ধন্যবাদ। এই সুন্দর, তবে কঠিন যাত্রায় আমার সঙ্গে থাকার জন্যও তাদের ধন্যবাদ। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককেও ধন্যবাদ। আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি অসংখ্য অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও মুহূর্ত।
আমি এই শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের কিছু স্বপ্নের মতো মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি। আপনাদের সঙ্গে সবকিছু অনুভব করা ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি!
আর্জেন্টাইন হিসেবে আমাকে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
আর্জেন্টিনা এগিয়ে চলো!’
আইএইচএস/