আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে, ক্লাব ফুটবল আরও কয়েক বছর চালিয়ে যাবেন হয়তো। কারণ, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার সময় ক্লাব ফুটবল নিয়ে কিছুই লেখেননি তিনি। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে না হলেও ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে মেসিকে আরও খেলতে দেখা যাবে।
সর্বশেষ এমএলএসে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে একাই ৪ গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এখনো যে ফুটবল তিনি উপহার দিচ্ছেন, তা দেখে রীতিমতো অবাক সবাই। মেসি বন্ধনায় মেতে উঠছেন ভক্ত সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, রেকর্ডের বরপুত্র বনে যাওয়া মেসির সামনে হাতছানি দিচ্ছে আরও একটি বিশ্বরেকর্ড।
লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে রেকর্ডের তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। বয়স, সময় কিংবা প্রতিপক্ষ- কোনো কিছুই থামাতে পারছে না আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে। এবার তার সামনে ফ্রি-কিক থেকে গোলের বিশ্বরেকর্ড। আর মাত্র পাঁচটি গোল করলেই এই তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন মেসি।
মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ইন্টার মিয়ামির ৭-১ গোলের বড় জয়ে মেসি একাই করেছেন চার গোল। এর মধ্যে দুটি গোল এসেছে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে। সেই দুই গোলের সুবাদে ক্যারিয়ারে ফ্রি-কিক থেকে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪-এ। ফলে সর্বকালের ফ্রি-কিক গোলদাতাদের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
এই তালিকায় মেসির সঙ্গে সমান ৭৪ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি জাইর রোসা পিন্টো। আর শীর্ষে রয়েছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান মার্সেলিনহো কারিওকা। তার ফ্রি-কিক গোল ৭৮টি।
অর্থাৎ, আর মাত্র পাঁচটি সরাসরি ফ্রি-কিক গোল করলেই মেসি ছাড়িয়ে যাবেন মার্সেলিনহোকে। তখন ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ফ্রি-কিক থেকে গোল করার ক্ষেত্রে মেসির ধারাবাহিকতা তাকে ইতিমধ্যে ফুটবলের কিংবদন্তিদের কাতারে নিয়ে গেছে। তার পেছনে রয়েছেন ব্রাজিলের রবার্তো দিনামিতে- ৭৩ গোল। মেসির আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের জুনিনহো পারনামবুকানো করেছেন ৭২টি ফ্রি-কিক গোল।
তালিকায় এরপর রয়েছেন মার্কোস আসুনসাও ৬৮ গোল নিয়ে। সাবেক যুগোস্লাভিয়া ও সার্বিয়ার কিংবদন্তি সিনিশা মিহাইলোভিচের গোল ৬৭টি। জর্জ আরাভেনার ৬৫ এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ৬৪টি ফ্রি-কিক গোল রয়েছে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর গোল ৬২টি, আর আর্জেন্টিনার আরেক মহাতারকা দিয়েগো ম্যারাডোনার ৬১টি।
ফ্রি-কিক থেকে গোল করার এই তালিকা নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পরিসংখ্যানে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। তবে আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাময়িকী ‘এল গ্রাফিকো’ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে তালিকাটি যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে পুনর্গঠন করেছে বলে জানিয়েছে।
মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই মেসির জন্য শুধু চার গোলের কীর্তিই নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও ছিল বিশেষ। দুই ফ্রি-কিক গোল তাকে নিয়ে গেছে নতুন এক মাইলফলকের কাছে।
মেসির ফ্রি-কিক নেওয়ার ধরনও তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। দূরত্ব, দেয়ালের অবস্থান কিংবা গোলরক্ষকের প্রস্তুতি- সবকিছু হিসাব করে নিখুঁত বাঁক ও গতিতে বল জালে পাঠানোর দক্ষতা বহু বছর ধরেই তার অন্যতম বড় অস্ত্র। বার্সেলোনা থেকে আর্জেন্টিনা, আর এখন ইন্টার মায়ামি- প্রায় প্রতিটি অধ্যায়েই ফ্রি-কিক থেকে এসেছে তার স্মরণীয় গোল।
মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে চার গোলের পারফরম্যান্সও তার সেই দক্ষতার আরেকটি প্রদর্শন। একই ম্যাচে দুটি ফ্রি-কিক গোল করে মেসি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেট-পিসে তার জাদু এখনো অটুট।
এখন অপেক্ষা শুধু নতুন বিশ্বরেকর্ডের। ৭৪ থেকে ৭৮- ব্যবধান মাত্র চার গোল। আর ৭৯-এ পৌঁছালেই মার্সেলিনহোকে পেছনে ফেলে ফ্রি-কিক থেকে গোলের সর্বকালের রেকর্ড নিজের করে নেবেন মেসি। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন তার পরবর্তী ফ্রি-কিকের দিকেই।
আইএইচএস/