কুমিল্লার চান্দিনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিল্পী রাণী দাশ নামে এক নারীকে হত্যার দায়ে স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া রতন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বারইপাড়া এলাকার মৃত ক্ষিতিশ দাশের ছেলে সমির চন্দ্র দাশ (৪২) ও তার স্ত্রী রূপালী রাণী দাশ (৩৭)। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বকুল রাণী দাশ নামে অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানায়, ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দিনার মহিচাইল এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই বাড়ির রনজিৎ চন্দ্র দাশ ও তার স্ত্রী শিল্পী রাণী দাশের সঙ্গে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সমির চন্দ্র দাশ, রূপালী রাণী দাশ ও বকুল রাণী দাশ ধারালো দা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পী রাণী দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত শিল্পী রাণী দাশের ভাসুর নিতাই চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে চান্দিনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত সমির চন্দ্র দাশ ও রূপালী রাণী দাশকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া রতন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে সোমবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ