ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নকে ‘বোকা প্রশ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যে সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও রয়টার্স-এর প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি তিনি বাদ দিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই তা বলব না, কিন্তু উত্তর হলো হ্যাঁ। এর কোনো কারণ নেই।’ ইরানের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত। এখন আমি কি তাদের ওপর পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করব? কী বোকা প্রশ্ন!’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন এক মাসের বিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ৩১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘কঠোরভাবে আঘাত’ করতে পারে। তবে একই সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যু দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে এবার তিনি স্পষ্ট করলেন, সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা তিনি বিবেচনা করছেন না।
এদিকে সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।