মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: অত্যন্ত দুঃখ, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঙ্গ নিয়ে সাভারস্থ বিরুলিয়া আকরান পুকুরপাড় এলাকায় কথিত ব্যবসায়ী কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরির মালিক নাজমা আক্তার কতৃক ভবন দখল ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ষ্টার কমপ্লেক্স, আকরান পুকুরপাড়, বিরুলিয়া, সাভার এর ভবনের মালিক মো: আকরাম হোসেন। গতকাল ৩১ আগস্ট ২০২৬ ইং, রোজ সোমবার, বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তন এই সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
এই সংবাদ সম্মেলনে আকরাম হোসেন বলেন, সম্প্রতি জনাবা মোসা: নাজমা খাতুন, “কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরির” পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা পরিচয়, হামলা ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া এবং তার প্রতিষ্টানের কোটি কোটি টাকা মূল্যের মেশিনারী ও মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। আমি এসব অভিযোগ সম্পূর্নভাবে অস্বীকার করছি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করছি।
আমার মালিকানাধীন ভবনের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার নির্ধারিত অংশ এবং নিচের টিনশেড বিল্ডিং জুতার ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে "কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি'-এর চেয়ারম্যান মোসা: নাজমা খাতুন ভাড়া নেন। শর্ত অনুযায়ী মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অগ্রিম হিসেবে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ভাড়াটিয়া হিসেবে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ফ্লোরগুলো ব্যবহার শুরু করেন। শুরুতে ডিসেম্বর ২০২৫ এবং জানুয়ারি ২০২৬ মাসের ভাড়া কয়েক কিস্তিতে পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে নিয়মিত ভাড়া ও অগ্রিম টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অগ্রিম বাবদ ১১ লাখ টাকা চাওয়া হলে টাকা সংগ্রহ হয়নি এবং অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে আমাকে জানানো হয়। আমি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে বারবার সময় দিয়েছি। কোনো ধরনের সংঘাত বা কঠোর পদক্ষেপে না গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। বারবার সময় দিয়েও বিষয়টি সমাধান হয়নি।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর শেষের দিকে আমি তাকে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে আগামী ৩১ মে ২০১৬-এর মধ্যে ফ্লোরগুলো খালি করার জন্য মৌখিকভাবে অনুরোধ করি। কিন্তু ভাড়ার টাকা চাইতে গেলেই ৭ দিন, ১০ দিন বা আরও কিছু সময় চাওয়া হয়েছে। প্রতিবারই টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। পরবর্তীতে তার অনুরোধে আরও সময় দেওয়া হয়। সর্বশেষ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জুলাই মাসও পার হয়ে গেছে। তারপরও বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি এবং আমার মালিকানাধীন ফ্লোরগুলোও খালি করা হয়নি।
একজন ভবন মালিকের কাছে ভাড়া হলো তার নিয়মিত আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। আমি শুধু আগের বকেয়া ভাড়াই হারাচ্ছি না, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তির কারণেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। আমি জনাবা নাজমার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। সম্প্রতি তিনি নিয়মিত ফোন রিসিভ করছেন না। কখনো ফোন রিসিভ করলেও বকেয়া ভাড়া পরিশোধ ও ফ্লোর খালি করার বিষয়ে কথা বললে বিভিন্ন ধরনের সময়ক্ষেপণের কথা বলা হচ্ছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না। আমি চাই বিষয়টির আইনসম্মত, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধান।
শ্রমিক-কর্মচারীদের বিষয়টিও উদ্বেগজনক:
আরও একটি বিষয় অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সে অনুযায়ী "কুসুম কলি সু" ফ্যাক্টরির শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে না পারায় প্রায় পাঁচ মাস যাবৎ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আজ আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানাতে চাই।
প্রথমত, আমার মালিকানাধীন ভবনের ভাড়াকৃত ফ্লোরগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত খালি করে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভাড়াটিয়ার কাছে যে বকেয়া ভাড়া ও অন্যান্য বৈধ পাওনা রয়েছে, তা আইন অনুযায়ী
আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যদি কোনো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থত, নতুন ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে করা আমার বৈধ ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে দেশ ও আমি আরও আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাই।
পঞ্চমত, একই সঙ্গে কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরির শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।
আমি বিশেষভাবে বলতে চাই, আমি কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। আমি চাই না এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। আমি শুধু আমার বৈধ সম্পত্তি ও পাওনা অর্থের আইনসম্মত অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অনুরোধ করছি, আলোচনার মাধ্যমে যদি দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়, তাহলে আমি সেটিও চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমার সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখে আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে, এটিও মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়৷