বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পুরোপুরি সমাধানে দুই বছর সময় লাগলেও বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এতটা সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, দুই বছর সময় লাগার অর্থ বাংলাদেশকে আগের অবস্থায় ফিরতে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। বরং যান্ত্রিক ও সরবরাহজনিত সমস্যাগুলো ঠিক হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে- অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা বলছি না দুই বছর লাগবে। বাংলাদেশ এই এক, দুই, তিন, চার বছর আগে যে জায়গায় ছিল, সেই জায়গায় আমরা খুব অল্প সময়ে পৌঁছে যাবো। আমাদের এই আশা আছে।
আরও পড়ুন
আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই: গ্যাস সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, যান্ত্রিক সমস্যা এবং সরবরাহের কিছু সমস্যার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা ঠিক হয়ে গেলে দ্রুতই আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, একটা যান্ত্রিক সমস্যা এবং সাপ্লাইয়ের কিছু সমস্যার কারণে আমাদের একটা টেম্পোরারি সমস্যা হয়েছে।
বর্তমান সংকটের কারণ হিসেবে একটি গ্যাসিফিকেশন ইউনিটে সমস্যা এবং সরবরাহ ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, আমাদের এই সংকটগুলো আপনারা জানেন একটা গ্যাসিফিকেশন ইউনিটে প্রবলেম ছিল, সাপ্লাইয়ে একটু সমস্যা ছিল। এটা ঠিক হয়ে গেলে আমাদের আর আগের অবস্থায় পৌঁছে যাবো।
দুই বছর কেন?
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণেই দুই বছরের সময়সীমার কথা বলা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার আরও একটি এফএসআরইউ আনছে। এর অর্ডার এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি দেশে আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে সর্বনিম্ন ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
এছাড়া এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বাপেক্স ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ করছে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে আসতে ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প উৎসের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা তুলে ধরেন। সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দিকে যাবে বলে জানান তিনি।
এসব উদ্যোগের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বর্তমানের তুলনায় অনেক ভালো পর্যায়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সব মিলিয়ে আমরা বলছি দুই বছর সময় লাগবে, তখন আমরা আগে যেটাকে আমরা ভালো বিদ্যুৎ বলতাম, তারচেয়ে অনেক ভালো বিদ্যুতে আমরা পৌঁছাব। তখন শহর এবং গ্রাম মিলিয়ে আমরা প্রায় আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ দিতে পারবো।
সারাদেশে কখনোই নিখুঁত বিদ্যুৎ যায়নি
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আরেকটি ব্যাখ্যাও দেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, গত বহু বছরেও সারাদেশে সবসময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। বড় শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম থাকলেও দেশের সর্বত্র একই পরিস্থিতি ছিল না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত বহু বছরে নিখুঁত বিদ্যুৎ সারাদেশের কোথাও যায় নাই, ইটস শিওর!
আরও পড়ুন
লোডশেডিং কমবে ‘খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে’: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
‘ঘরে ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে’ এমন প্রচারণাও পুরোপুরি সঠিক ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংবাদিকদের দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
এলএনজি নিয়ে বড় শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অহেতুক আত্মবিশ্বাস দেখাতে চায় না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এলএনজি সরবরাহ ও দামের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪-২৫ ডলারে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দাম ৩০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগের অবস্থায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এমএএস/ইএ