ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয়েই এশিয়া কাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সোমবার দুবাইয়ে আগে ব্যাটিং করে ১৩০ রান করার প্রতিপক্ষকে ৫৯ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগ্রেসরা। তবে ৭১ রানের বড় জয়ের পরও ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ম্যাচ শেষে ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া নাহিদা আক্তার বললেন, বড় দলের বিপক্ষে আরও বেশি রান রান চান তারা।
ব্যাটিং বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও ভুগেছে দল। বড় জয় ধরা দিয়েছে মূলত বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ তুলতে পারে স্রেফ ৩২ রান। ১০ ওভারে আসে মাত্র ৫৮। শেষদিকে স্বর্ণা আক্তার করেন ৩১ বাকি ৫ ব্যাটার মিলে করেন মাত্র ৩ রান।
ব্যাটিংয়ে কিছুটা ঘাটতি দেখছেন সহঅধিনায়ক নাহিদা আক্তারও। তার মতে, ধীরগতির উইকেটে ১২৯ রান যথেষ্ট হলেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও ১০-১৫ রান বেশি করতে হবে।
ম্যাচ শেষে নাহিদা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ম্যাচটি জিতেছি। উইকেটটা একটু ধীরগতির ছিল। তাই আমার মনে হয়, আমাদের জন্য এই রান যথেষ্ট ছিল। আমরা আমাদের বোলিং শক্তি সম্পর্কে জানি। তারপরও বলব, আমরা ১০ থেকে ১৫ রান কম করেছি। তবে আমরা আমাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের শক্তি সম্পর্কে জানি।’
বোলারদের পারফরম্যান্সে অবশ্য বেশ সন্তুষ্ট নাহিদা। তবে এখানেই থামতে চান না তিনি। পরের ম্যাচগুলোতে আরও উন্নতির প্রত্যাশা তার, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের বোলাররা ভালো করেছে। তবে আমি এখনো বিশ্বাস করি, আমরা আরও ভালো করতে পারি। ইনশাআল্লাহ, পরের ম্যাচে আরও উন্নতি করার চেষ্টা করব।’
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য যে শুধু ভালো করা নয়, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নাহিদা। সরাসরি জানিয়েছেন, দলের চোখ ট্রফিতে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা ট্রফি জয়ের লক্ষ্যেই এগোচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে সেটা সম্ভব।’
তবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ১২৯-১৩০ রান নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেসব ম্যাচে ব্যাটারদের কাছ থেকে আরও বড় সংগ্রহ চান তিনি। নাহিদা বলেন, ‘আজকের উইকেটের আচরণ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। উইকেটের আচরণ অনুযায়ী আজ ১৩০ রান আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেললে আমরা অবশ্যই ১০ থেকে ১৫ রান বেশি করার চেষ্টা করব, যাতে রানটা ডিফেন্ড করতে পারি।’
ভারত-পাকিস্তানের মতো বড় দলের বিপক্ষে কৌশল কী হবে, এমন প্রশ্নে অবশ্য পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চাননি নাহিদা। তার ভাষায়, ‘সেটা গোপন। মিটিংয়ে আমরা যখন আলোচনা করি, তখন ইতিবাচকভাবে কথা বলি। আমরা নিজেদের শক্তি সম্পর্কে জানি, তাই সবসময় নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা করেই খেলি।’
নিজের বোলিং নিয়েও একই দর্শনের কথা জানিয়েছেন নাহিদা। দলের পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের পরিকল্পনার সমন্বয় করেই বোলিং করেন তিনি, ‘আমি যখন বোলিং করি, তখন দলের পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের একটি সহজ পরিকল্পনা অনুসরণ করি। কার্যকরভাবে বোলিং করার জন্য সবসময় নিজের পরিকল্পনা ও দলের পরিকল্পনাকে একসঙ্গে মিলিয়ে নিই।’
এসকেডি/আইএন