নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রমজানকে সামনে রেখে আগামী অক্টোবরের মধ্যে ব্যবসায়ীদের নিয়ে আবারও মতবিনিময় সভা করার আশা প্রকাশ করেছেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলোর ফলোআপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শেষে এর ফলাফল নিয়ে আগামী মাসে আবারও কার্যকর পরিসরে বসার চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
সভায় দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা পূর্বাভাস সেলের বাণিজ্য পরামর্শক (যুগ্মনিয়ন্ত্রক) আবু সালেহ্ মোহাম্মাদ ইমরানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে এ বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক সাংবাদিকদের ওই বিতর্ক সেখানেই শেষ করার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘তার মতো করে সে লিখবে। আমি যখন লিখি, কাউকে জিজ্ঞেস করে লিখি না যে ভাই, আমি এইটা লিখবো। আমার লেখাটা যিনি এডিট করতেন বা অথরিটি ছিলেন কোনো সময় চিফ রিপোর্টার, কোনো সময় নিউজ এডিটর তাদেরই দায়িত্ব ছিল। এর বাইরে যিনি লেখেন, তার লেখার স্বাধীনতা আছে।’
তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার একটি পরিসীমা রয়েছে এবং সেটি মেনেই সবাইকে চলতে হয়।
মো. ফজলুল হক বলেন, ‘এইটা নিয়ে যেন ভুল বোঝাবুঝি না হয়। আজকের মিটিংয়ের ফোকাস যেন ঠিক থাকে, সেই জন্য আমি বিনম্র অনুরোধ জানাই।’
তিনি বলেন, এফবিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগটি মূলত বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে বসিয়ে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতের বড় ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সভায় অংশ নিয়েছেন, যা ইতিবাচক।‘তারা না আসতেও পারতেন। আমরা তো কন্ট্রোলিং অথরিটি নই। তারপরও তারা এসেছেন। এটাকে তাদের সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে দেখতে চাই,’ বলেন তিনি।
এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, ব্যবসায়ীরা সভায় বাজার পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সুপারিশ করেছেন। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কোথায় কোথায় কাজ করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার সময়সীমা আছে তিন মাস। আমি চেষ্টা করবো আজকের মিটিংয়ের ফলোআপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মিনিস্ট্রিগুলো ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলাপ করতে। আমি আশা করি, আগামী অক্টোবর মাসের ভেতরে রমজানকে সামনে রেখে আরেকটা এরকম বৈঠক করা যায় কি না ফলাফল ও ফলোআপ নিয়ে।’
পরবর্তী বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য উপদেষ্টাদেরও যুক্ত করার চিন্তার কথা জানান তিনি।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে বাজারে যেন অযৌক্তিকভাবে দাম না বাড়ে, সে বিষয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘পে-স্কেল ঘোষণার পরে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটু শঙ্কা আছে যে জিনিসপত্রের দামের কী হবে। এই জায়গা থেকে আমরা একটা পজিটিভ মেসেজ অন্তত দিতে চাই।’
বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, শুধু লোক দেখানোর জন্য বাজার পরিদর্শন বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান না তিনি। বরং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যকরভাবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমি লোক দেখানো কাজের জন্য বাজারে গেলাম, মিডিয়া গেল এর চেয়ে বরং ইফেক্টিভ কীভাবে কাজ করা যায়, যেখানে আজকের সুপারিশগুলো নিয়ে কাজ করা যায়, সেটা আমি করবো।’
সামনে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারে যাতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে না হয়, সে বিষয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা হবে।
‘আজকের এই অনুষ্ঠান যদি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ন্যূনতম ভূমিকা রাখে, তাহলেই আমরা মনে করবো আমাদের এই আয়োজন সার্থক হয়েছে। আর এই সার্থকতায় আপনারা সবাই অংশীদার,’ বলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক।
ইএইচটি/এসএনআর