রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পোলট্রি মুরগি ও ডিমের দাম। সেইসঙ্গে দাম কমেছে কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডাল ও মাছ-মাংসের দাম।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৬-৪৮ টাকা। তবে ছোট সাইজের ডিমের হালি কোথাও ৪২-৪৩ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে।
সিটি বাজারের ডিম বিক্রেতা সাজু মিয়া বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বাড়ে না।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ও গাজরের দাম বেড়ে ১২০-১৪০ টাকা হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা, কাঁকরোল গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, ঝিংগা ৬০-৭০ টাকা, মূলা ৪০-৫০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০-৩০ টাকা, সজনে ডাঁটা ১৮০-২০০ টাকা থেকে কমে ১৪০-১৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, লেবুর হালি আগের মতো ১০-১৫ টাকা, চিকন বেগুন ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, বাজারে নতুন আসা শিম ১৬০-১৮০ টাকা, বরবটি আগের মতো ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০-১৫০ টাকা, রকমভেদে শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৪৫০-৫০০ টাকা, কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতোই ২২-২৫ টাকা, সাদা আলু ৩০-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা টাকা, শিল আলু ৪৫-৫০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন
খাল ভরাট করে দখল, জলাবদ্ধতায় শেরপুরে ৬০০ একর জমি
এছাড়া দেশি আদা গত সপ্তাহের মতোই ২২০-২৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিও বাজারের সবজি বিক্রেতা আজিজার রহমান বলেন, বাজারে এখন সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এ কারণে অনেক সবজির দাম কমেছে। ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে অনেক সবজি বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে বাজারে নতুন আসা কিছু সবজির দাম আকাশচুম্বী। দিন গড়ালে এর দামও কমে আসবে।
এদিকে, মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৭০-২৮০ টাকা থেকে কমে ২৬০-২৭০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০-৫৭০ টাকা থেকে কমে ৫২০-৫৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৬০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৭০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৬৫-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর২৮- ৬০-৬৫ টাকা, বিআর২৯- ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫০-৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৫-৮০ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ গত সপ্তাহের মতোই ৩২০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, কারপু ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৮০-২৪০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/এনএইচআর/জেআইএম