রাজশাহীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে, শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু জেলার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় অংশ চলছে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। জেলার ১ হাজার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ মোট বিদ্যালয়ের ৫৬ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের বড় অংশই সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের।
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১ হাজার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ৫৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৬৮ জন। ফলে ৫৮৯টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদগুলোর কারণে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
শুধু সংখ্যার হিসাবে নয়, কয়েক বছর ধরে রাজশাহীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকটের চিত্রটি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাজশাহীর ১ হাজার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৯টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকার তথ্য উঠে এসেছিল। তখনও বাগমারা, গোদাগাড়ী ও তানোরে সংকট সবচেয়ে বেশি ছিল। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯-এ পৌঁছেছে। এদিকে সংকট শুধু স্থায়ী হয়নি, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।
‘শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। অনেক সময় চাইলেই আমরা অনেক কিছু করতে পারি না। আমাদের কাজ হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে অবগত করা-যেটা ইতোমধ্যে আমরা করেছি।’
উপজেলাভিত্তিক হিসাবেও পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। সবচেয়ে বেশি সংকট বাগমারা উপজেলায়। সেখানে ২২০টি অনুমোদিত প্রধান শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৫ জন। শূন্য রয়েছে ১৪৫টি পদ। অর্থাৎ বাগমারার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়েই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৬৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৬ জন। শূন্য রয়েছে ৮৯টি পদ। তানোরে ১২৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৩ জন এবং শূন্য রয়েছে ৮৫টি পদ। এই তিন উপজেলাতেই মোট ৩১৯টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, যা জেলার মোট শূন্য পদের অর্ধেকেরও বেশি।
দুর্গাপুরেও সংকট কম নয়। সেখানে ৮৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৭ জন এবং শূন্য রয়েছে ৪৬টি। পুঠিয়ায় ৯০টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪১ জন, শূন্য ৪৯টি। পবা উপজেলায় ৮৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪০ জন এবং শূন্য রয়েছে ৪৩টি পদ।
‘ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি ঠিকই। কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষকের পক্ষে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব সামলানো অত্যন্ত কঠিন। পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় অনেক জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হয়। দ্রুত এ সংকট কাটাতে সরকারের সুনজর কামনা করেন তিনি।’
বাঘায় ৭৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৫ জন এবং শূন্য রয়েছে ৩৯টি। চারঘাটে ৭৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩২ জন এবং শূন্য ৪১টি। মোহনপুরে ৮১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪১ জন, শূন্য রয়েছে ৪০টি। অন্যদিকে বোয়ালিয়া থানা এলাকায় ৬০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৮ জন এবং শূন্য রয়েছে ১২টি।
পরিসংখ্যান বলছে, রাজশাহীর গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতেই প্রধান শিক্ষক সংকট তুলনামূলক বেশি। বাগমারা, গোদাগাড়ী ও তানোরের মতো বড় উপজেলাগুলোতে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়কে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনায় চলতে হচ্ছে। এর ফলে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক পরিবেশও চাপের মধ্যে পড়ছে।
প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান বা শিক্ষক উপস্থিতি তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি ও অনলাইনে তথ্য পাঠানো, সভায় অংশগ্রহণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিদ্যালয়ের আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও প্রধান শিক্ষককে পালন করতে হয়।
‘প্রধান শিক্ষক পূরণের ক্ষেত্রে সরকারকে বিকল্প ভাবতে হবে। প্রধান শিক্ষকের অর্ধেক নিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি এবং বাকি অর্ধেক সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রমোশনের মাধ্যমে করা উচিত। তাহলে এ সংকট দ্রুত কাটবে।’
কিন্তু প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব দায়িত্বের একটি বড় অংশ এসে পড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। ফলে একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের কর্মচাপ বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে জেলার ১৫৭ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বাগমারায় ৩৪ জন, তানোরে ২০ জন, দুর্গাপুরে ২০ জন, মোহনপুরে ১৮ জন, পুঠিয়ায় ১৭ জন, পবায় ১৫ জন, বাঘায় ১২ জন, গোদাগাড়ীতে ১১ জন এবং চারঘাটে ১০ জন রয়েছেন।
তবে চলতি দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের দায়িত্বের পরিধি বাড়লেও তাদের পদটি স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের সমতুল্য নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, দাপ্তরিক অনুমোদন কিংবা বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
পবা উপজেলার বাগসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওদুদ বলেন, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি ঠিকই। কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষকের পক্ষে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব সামলানো অত্যন্ত কঠিন। পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় অনেক জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হয়। দ্রুত এ সংকট কাটাতে সরকারের সুনজর কামনা করেন তিনি।
বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়া এলাকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব এক নয়। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রশাসনিক অনেক জটিলতা তৈরি হয়। সরকার চাইলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করতে পারে। কিন্তু কী কারণে তাদের ভারমুক্ত করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
প্রধান শিক্ষক সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতাও। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের ৮০ শতাংশ পদ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়েলট সংকট, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
এই হিসাবে রাজশাহী জেলায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষক পদের সংখ্যা ৮৪৪টি। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে ১৩২টি, চারঘাটে ৫৮টি, তানোরে ১০২টি, দুর্গাপুরে ৬৬টি, পুঠিয়ায় ৭২টি, পবায় ৬৬টি, বাগমারায় ১৭৬টি, বাঘায় ৫৯টি, বোয়ালিয়ায় ৪৮টি এবং মোহনপুরে ৬৫টি পদ রয়েছে।
কিন্তু ৮৪৪টি পদোন্নতিযোগ্য পদের বিপরীতে পদোন্নতির মাধ্যমে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭১ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী যে সংখ্যক পদ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হওয়ার কথা, তার তুলনায় বাস্তবে পদোন্নতি হয়েছে খুবই কম।
শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাদের একটি বড় অংশ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাননি। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়।
রাজশাহী জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, মামলার কারণে এত দিন পদোন্নতি বন্ধ ছিল। এখন সহকারী শিক্ষকদের কাছে এসিআর (গত পাঁচ বছরের মূল্যায়ন) চাওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।
আরও পড়ুন
কবর থেকে ‘ক্লাসরুমে’ কঙ্কাল
প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগের হিসাবেও রয়েছে ভিন্ন চিত্র। ২০ শতাংশ হিসাবে জেলায় সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা ২১৩টি। কিন্তু এ কোটায় সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে কর্মরত আছেন ৩৬৯ জন। ফলে প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৮০:২০ অনুপাত এবং বাস্তব নিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধান শিক্ষক শুধু বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান নন; বিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি শিক্ষা নীতির বাস্তবায়নেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন কোনো বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি জবাবদিহির ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
রাজশাহীর কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলেও সংকটের দীর্ঘস্থায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। কয়েক বছর আগে প্রকাশিত তথ্যেও জেলার কয়েকশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার চিত্র উঠে এসেছিল। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে ৪২০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তখনও বাগমারা, তানোর, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও পুঠিয়ায় সংকট ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে শূন্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৮৯ হিসেবে উঠে আসে। আর ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সর্বশেষ জেলা তথ্য অনুযায়ী শূন্য প্রধান শিক্ষক পদ রয়েছে ৫৮৯টি বিদ্যালয়ে।
প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা মানেই বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক নেই-এমন নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহকারী শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না হলেও একই শিক্ষককে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রমের মান ও প্রশাসনিক দক্ষতা-দুই দিকেই চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন
নতুন ভবনে নেই টয়লেট-পানি, অন্য স্কুলে ক্লাস শিক্ষার্থীদের
প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি, অনলাইন রিপোর্টিং, সভা ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে অনেক শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের বাইরে সময় দিতে হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ করতে হলে শুধু নতুন নিয়োগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা, আইনি জটিলতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোও দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
পবা উপজেলা মৌগাছি ইউনিয়ন এলাকার প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরাফাত রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক পূরণের ক্ষেত্রে সরকারকে বিকল্প ভাবতে হবে। প্রধান শিক্ষকের অর্ধেক নিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি এবং বাকি অর্ধেক সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রমোশনের মাধ্যমে করা উচিত। তাহলে এ সংকট দ্রুত কাটবে বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। অনেক সময় চাইলেই আমরা অনেক কিছু করতে পারি না। আমাদের কাজ হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে অবগত করা-যেটা ইতোমধ্যে আমরা করেছি।
এনএইচআর/জেআইএম