বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলটি কখনো জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেনি। আগামীতেও জনগণের পাশে থেকে তাদের বিশ্বাস ও আস্থা নিয়েই এগিয়ে যাবে বিএনপি।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সালাহ উদ্দিন জসিম। দুই পর্বের ধারাবাহিকের আজ প্রকাশ হলো প্রথম পর্ব।
বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সালাহ উদ্দিন জসিম, ছবি: জাগো নিউজ
জাগো নিউজ: বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। বিএনপি যে সময়ে যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক সেই সময়ের মতোই একটা প্রেক্ষাপট এখন বিএনপি দেখছে। এমন সময়ে আমরা শুনতে চাই, কিভাবে কোন প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রতি মুগ্ধ হয়েছেন বা রাজনীতিতে এসেছিলেন?
হাবিব-উন-নবী খান সোহেল: আমরা যখন রংপুরের কারমাইকেল কলেজের ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট, তখন সামনে একটি ইলেকশন আসলো কলেজের, ১৯৮১/৮২ দিকের ঘটনা। তখন তো ছাত্র সংসদের ইলেকশনগুলো হতো, এখন তো আর হয় না। কলেজে তখন ইলেকশন হচ্ছে। ইলেকশনে অনেক পার্টি তখন প্রার্থী দিয়েছে। আমরা যারা সেই সময় রংপুর জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলাম, আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে কাজ করবো। এই ক্ষেত্রে আমি একটু রোল প্লে করেছিলাম, কারণ আমার কাছে সবসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তার দেশপ্রেম, তার সততা অনুকরণীয় বিষয় ছিল।
তখন আমরা সবাই মিলেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে কাজ করেছি। তারপরে সেই প্যানেল জিতেছে। সেখান থেকেই মূলত রাজনীতির শুরু। তারপরে তো ইউনিভার্সিটিতে এসে আরও বেশি অ্যাকটিভ হলাম ছাত্রদলের পক্ষে।
জাগো নিউজ: জয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি হলেন। ওই সময়কার রাজনীতির অভিজ্ঞতা যদি বলেন?
হাবিব-উন-নবী খান সোহেল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিতে আমরা নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ছিলাম। আমরা যারা সেই সময় ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, আমাদের প্রায় নানা রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতো। কখনও সরকারি ছাত্র সংগঠন, সরকারি বাহিনী, কখনও ছাত্রলীগের সঙ্গে আমাদের সমস্যা হতো, কখনও জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সমস্যা হতো। এরকম ইনার কনফ্লিক্টগুলো হতো। তারপরেও আমরা শেষমেশ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সবাই মিলে লড়াই করেছিলাম।
যদিও ৮৬ সালের ঘটনাটি আপনারা সবাই জানেন যে, অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে এরশাদ সাহেব দিলেন প্রহসনের নির্বাচন। আমরা সবাই ইস্পাতকঠিন ঐক্য হলাম যে যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হতে দেব না, এরশাদের পতন ঘটাবো। ঠিক সেই সময় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই এরশাদের প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আমাদের ছাত্র আন্দোলনের পিঠে ছুরিঘাত করলেন। নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি তার সংগঠনগুলো নিয়ে বের হয়ে গেলেন। তারপরও তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন, যেমন আমাদের হাবিবুর রহমান হাবিব ভাই, উনি কিন্তু তার নেত্রীর কথা শুনেননি। তখন উনি ছাত্রলীগ করতেন, কিন্তু উনি আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন। শেষমেশ তারা আবার ফিরে এসেছে, অবশেষে আমরা সবাই মিলে লড়াই করে এরশাদের পতন ঘটিয়েছিলাম।
সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া যে কথাটি বলেছেন, কোনোভাবেই আমরা এরশাদের প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না, এরশাদকে পদত্যাগ করতে হবে, তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। উনার যে স্ট্যান্ড, এই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি চলবে না, সেই স্ট্যান্ডে যদি উনি না থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তোবা ভিন্ন রকম হতো। কিন্তু উনার সেই আপসহীন ভূমিকার কারণেই এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল।
আরও পড়ুন
জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হয়নি বিএনপি, এটি আমাদের গর্বিত অতীত
ক্ষমতার পালাবদল ও নেতৃত্বের পরিবর্তনে ৪৮ বছরে কী পেল-কী হারাল বিএনপি
জাগো নিউজ: সেই ৯০ এবং ২৪, পার্থক্য কেমন দেখছেন?
হাবিব-উন-নবী খান সোহেল: ৯০-এ যারা বেইমানি করেছেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, আবার তাদেরকেই মোকাবিলা করতে হয়েছে গত ১৫ বছর। সেই স্বৈরাচার আর পরবর্তী স্বৈরাচার এক হয়ে গিয়েছিল, স্বৈরাচার তো সব হরিহর আত্মা। এরা সব একসঙ্গেই থাকে। সেই স্বৈরাচারের বোন আরেক স্বৈরাচার আমাদের সমস্ত অধিকারগুলো একে একে কেড়ে নিতে থাকলো।
আমাদের কথা বলার অধিকার, মিছিল-মিটিং করার অধিকার কেড়ে নিলো। আগে আমরা কত জায়গায় মিছিল-মিটিং করতে পারতাম। সেই মিছিল-মিটিং দেখলাম যে সব আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে গেল। মিছিল করলে হামলা হতো, মিছিল করতে দেওয়া হতো না। আমাদের কতবার যে এই সিচুয়েশনের মধ্যে পড়তে হয়েছে, প্রেস ক্লাবের সামনে প্রোগ্রাম করতে গেছি, মুক্তাঙ্গন তো বন্ধ করে দিয়েছে, তারপর পল্টন ময়দানে করতাম, মুক্তাঙ্গনে করতাম, কত জায়গায় না আমরা মিছিল-মিটিং করতাম।
পরে দেখতাম যে পারমিশনই পাওয়া যেত না। অনুরোধে যদিও বা পারমিশন দিত, হঠাৎ একদম প্রোগ্রামের আগের দিন দিত। আর কোনো প্রোগ্রাম দিলে পরেই আজকে একে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, কালকে ওকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, যেন এক অত্যাচারের এক বিশাল নেটওয়ার্ক সচল হয়ে যেত। কাকে কখন থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, এই অবস্থার মধ্যে আমরা প্রত্যেকটা প্রোগ্রাম করতাম। একেকটা প্রোগ্রাম করা মানেই কতজনের গ্রেফতার। তো যাই হোক, মানে একদম সেই মধ্যযুগীয় সেই কায়দায় দেশ চালিয়েছেন, সেই সময়কার যারা অত্যাচারী ছিল, তাদের কায়দায় দেশ চালিয়েছেন শেখ হাসিনা ১৫ বছর, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল, অপ্রত্যাশিত ছিল।
হামলা ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছবি: সোহেলের ফেসবুক থেকে
এত বাজেভাবে উনি বাজে রাস্তায় তিনি হাঁটবেন, যদিও আমরা জানতাম যে এতো বাকশালেরই তো দল। বাকশাল তো বাংলাদেশের অধিকার হরণকারী দল, সেই দলই তো ক্ষমতায়। ভালো কিছু আশা করা যায় না, কিন্তু তারপরেও এত খারাপ হবে তা আমরা ভাবিনি। কখন কাকে ধরে গুম করে দেওয়া হচ্ছে! আবার সেই ফ্যামিলিগুলোর দু-একজনের সঙ্গে উনি কথাও বলছেন। উনি জানেন যে উনি গুম করেছেন।
এই যে চৌধুরী আলম, খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা ছিলেন আমাদের ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার অনেক ভূমিকা আছে। সেই লোকটাকে হঠাৎ করেই ফার্মগেটের ওখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। তারপরে নাই! ইলিয়াস আলী, আপনারা জানেন যে ইলিয়াস আলী সেই মানের এক পরিচিত নাম, একজন এরশাদবিরোধী আন্দোলনের একটা সাহসী কণ্ঠস্বর। সিলেট বেল্টের অত্যন্ত জনপ্রিয়, সারা বাংলাদেশেই তার ভীষণ জনপ্রিয়তা ছিল। বলিষ্ঠ সংগঠক, সাহসী, ত্যাগী নেতা। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। সালাউদ্দিন ভাইকেও তো তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আপনারা জানেন যে কিভাবে কী অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ছিলেন এত বছর।
আমাদের নাখালপাড়ার একটা ছেলে, ঐ যে সুমন, যার বোন এখন এমপি হয়েছে। অ্যাকটিভ ছেলে সেখানকার, খুবই অ্যাকটিভ একটা ছেলে, তুলে নিয়ে গেল। সারা বাংলাদেশ থেকে এইভাবে কথা নেই-বার্তা নেই, আমরা বিভিন্ন স্ট্যালিনের শাসনের কথা শুনেছি যে রকম নাকি গুম হয়ে যেত।
আরও পড়ুন
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা এনে দিয়েছে: আলাল
যেসব ঘটনা বদলে দিয়েছে বিএনপির রাজনৈতিক গতিপথ
জাগো নিউজ: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা—আপনি জনগণের ভাষায় কী বোঝেন? জনগণ কী চায় আপনাদের কাছে? আপনাদের কাছে কী মেসেজ?
হাবিব উন-নবী-খান সোহেল: দেখেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক খুব গভীর। কারণ এদেশের জনগণ সবসময় বিএনপির পাশে ছিল, বিএনপির পক্ষে ছিল বলেই আমরা এই (৪৮ বছরের) দুর্গম পথ অতিক্রম করতে পেরেছি। আমাদের সুখে-দুঃখে এদেশের জনগণ সবসময় আমাদের পাশে ছিল। আমরাও এদেশের জনগণের পাশে সবসময় ছিলাম।
আমরা যে গানটা গাই—‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’—এই গানটা শুধু গাওয়ার জন্য না, এগুলো আমরা ফিল করি। এগুলো আমাদের ভেতর থেকে আসে। আমরা দেশকে এতটা ভালোবাসি। আমাদের নেতা যখন বলেন যে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট, সবার আগে বাংলাদেশ’—এটাও উনি আমাদের অতীত ইতিহাস থেকে বলেন। কারণ আমরা সবসময় বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিয়েছি, বাংলাদেশের জনগণকে প্রাধান্য দিয়েছি। কখনোই আমরা ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেই নাই।
মঈন উদ্দিন সাহেব আমাদের ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিলেন, আমাদের নেত্রী বলেছিলেন, ‘জনগণের ভোট ছাড়া, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো ক্ষমতায় বিএনপি বিশ্বাস করে না, বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বাস করেন না।’ তাহলে তো ওনাকে এত কষ্ট করতে হতো না, আমাদের এত নেতাকর্মীর জীবনও দিতে হতো না। কিন্তু আমরা সবসময় জনগণকে প্রাধান্য দিয়েছি যে, জনগণ যেটা চাবে সেটা হবে, এর বাইরে কোনো কিছু না।
গ্রেফতারের পর আদালতে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছবি: সোহেলের ফেসবুক থেকে
জনগণের প্রতি আমাদের যে কমিটমেন্ট, এটি আমাদের আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। একটা কথা আমরা সবসময় মনে রাখি, আমরা ফিল করি যে, আমরা একটি দেশপ্রেমিক সংগঠন, দল। এ দেশপ্রেমিক দল ক্ষমতায় থাকুক আর বিরোধী দলে থাকুক—খুব একটা ডিফারেন্স নাই। ডিফারেন্স নাই এই কারণে যে, সবসময় আমাদের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করেই এগোতে হবে।
আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, পরাশক্তি-অপশক্তিরা যেভাবে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, আজকে আমাদের নেতা তারেক রহমান, আমরা ক্ষমতায় এসেছি কিন্তু এই অপশক্তিগুলো আরও শক্তি নিয়ে আমাদের পেছনে লাগবে। পেছনে কাজ করবে, নানা কনস্পিরেসি করবে। বাট এগুলো অতীতেও যেমন আমরা মোকাবিলা করে এসেছি, আগামীতেও আমরা এই প্রতিকূল পরিবেশ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাব সামনের দিকে।
একটা সুন্দর বাংলাদেশ, একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে আমাদের শহীদ ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন ৭১ সালে, সে বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করব আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
আরও পড়ুন
তৃণমূলকে চাঙা করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটির আকার ছোট করার চিন্তা
জাগো নিউজ: আপনি বলছিলেন যে, বিএনপি এমন একটা দল ক্ষমতার মধ্যেও ষড়যন্ত্রের শিকার, ক্ষমতার বাইরেও ষড়যন্ত্রের শিকার। কিন্তু ক্ষমতার মধ্যে ষড়যন্ত্রটা ভিন্ন। তখন জনগণ পাশে থাকে না, জনগণের প্রত্যাশা থাকে।
হাবিব উন-নবী-খান সোহেল: এটা হতে পারে। আমাদের যে ভুল হবে না, তা না। ভুল হতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ সবসময় মনে করে, একটা জিনিস বিশ্বাস করে যে, বিএনপি এমন একটি পলিটিক্যাল পার্টি, যে দল ক্ষমতায় থাকলে এটলিস্ট একটা জিনিস হবে না—যে আমি রাতে ঘুমিয়ে আছি, আমার অজান্তে একটি চুক্তি হয়ে গেল, আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বুকের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাচ্ছে অন্য দেশের—এমন ঘটনা বাংলাদেশে ঘটবে না যতদিন বিএনপি ক্ষমতায় আছে।
সুতরাং এ দেশে বিএনপির প্রতি যে মানুষের বিশ্বাস, সে বিশ্বাসটা সবসময় ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। এবং আমরা জনগণের সে বিশ্বাসটি যেকোনো মূল্যে ধরে রাখব।
জাগো নিউজ: আমি যদি আরেকটু প্র্যাকটিক্যাল হই। ধরেন গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের সংকট, নানা সংকটের মধ্যেই বিএনপির এই ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এই নানা ক্রাইসিসকে মোকাবিলা করে জনগণকে সন্তুষ্ট রেখে, সমর্থকদের সন্তুষ্ট রেখে বিএনপি কীভাবে পথ চলবে?
আদালতে হাজিরা দেওয়ার পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ নেতাকর্মীরা, ফাইল ছবি: সোহেলের ফেসবুক থেকে নেওয়া
হাবিব উন-নবী-খান সোহেল: চলবে, পারব আমরা। অতীতেও যেমন আমরা পেরেছি জনগণকে পাশে রেখে, আমরা আগামীতেও পারব। টুকটাক কিছু তো সমস্যা হবেই, রাষ্ট্র চালাতে... আমরা তো ধনী দেশ না। ধনী দেশ হলে তো অনেক সমস্যা থাকে না, আমরা তো ধনী দেশ হওয়ার চেষ্টা করছি, উন্নত দেশ হওয়ার চেষ্টা করছি। এখনো তো অনেক সমস্যা আছে, এগুলো আমাদের ফেস করতে হবে। কিছু সমস্যা আছে এগুলো... আমাদের যদি প্রচেষ্টার মধ্যে আন্তরিকতা থাকে, জনগণ সেটা বুঝতে পারবে যে, এরা চেষ্টা করছে।
জাগো নিউজ: এই আত্মবিশ্বাসের উৎস বা শক্তিটা কী?
হাবিব উন-নবী-খান সোহেল: শক্তি হচ্ছে জনগণ। আমরা কখনোই জনগণের সঙ্গে বেইমানি করিনি, জনগণের পক্ষে ছিলাম। আগামীতেও জনগণের পক্ষেই থাকব এবং জনগণের বিশ্বাস নিয়ে আমরা চলব।
এসইউজে/এমএমএআর